• প্ল্যাটফর্মে ভাব জমিয়ে যাত্রীর ফোন হাতানো, অভিনব জালিয়াতিতে হাওড়া স্টেশনে ধৃত দুই
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: অভিনব কায়দায় জালিয়াতির অভিযোগে সম্প্রতি দু’জনকে হাওড়া স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করেছে জিআরপি। তাদের পাকড়াও করার পরই সামনে এসেছে জালিয়াতির এই নয়া কৌশল। প্ল্যাটফর্মে তারা দূরপাল্লার কোনো যাত্রীর সঙ্গে ভাব জমাচ্ছে। কথাবার্তার মধ্যে জেনে নিচ্ছে সংশ্লিষ্ট যাত্রী কোন ট্রেনে কোথায় যাচ্ছেন। অভিযুক্তরাও একই ট্রেনে যাবে বলে জানিয়ে সহযাত্রী হিসেবে আরও কিছুটা ঘনিষ্ঠতা বাড়াচ্ছে। মোবাইল ফোন কোথায় রাখছে বা ফোনে কী করছেন যাত্রী, সেসব নজর করছে ভালোভাবে। যাত্রী যদি কোনো ইউপিআই অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন করেন, তাহলে তারা খেয়াল করছে ওই অ্যাপের পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন। এরপর কোনো এক সুযোগে যাত্রীর ফোন হাতিয়ে গোপনে জেনে নেওয়া পাসওয়ার্ড বা প্যাটার্ন অনুযায়ী ইউপিআই অ্যাপ খুলে টাকা সরিয়ে নিচ্ছে নিজেদের অ্যাকাউন্টে। এভাবে না সম্ভব হলে তড়িঘড়ি তারা ‘এক্সপার্ট’ কাজে লাগিয়ে পাসওয়ার্ড ‘ব্রেক’ করে ফেলছে। তারপর ফাঁকা করে দিচ্ছে অ্যাকাউন্ট। সম্প্রতি হাওড়া স্টেশনে এই জালিয়াতদের খপ্পরে পড়ে এক সিআইএসএফ জওয়ান এবং আরপিএফের এক কনস্টেবলের বিপুল টাকা খোয়া যায়। তদন্তে নেমে চক্রের দুই পাণ্ডাকে হাওড়া স্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে রেল পুলিশ।

    জিআরপি সূত্রে খবর, মণিপুরে কর্মরত সিআইএসএফ জওয়ান অতুল কুমার প্রয়াগরাজ যাওয়ায় জন্য গত ১১ ফেব্রুয়ারি হাওড়া স্টেশনে আসেন। চম্বল এক্সপ্রেস ধরার জন্য ৮ নম্বর প্ল্যাটফর্মে বসেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, সেই সময় এক যুবক পাশে এসে আলাপ জমায়। জানায়, সেও প্রয়াগরাজই যাবে। আরও এক যুবক এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। সে উত্তরপ্রদেশ যাবে বলে জানায়। দু’জনেই বলে, তারাও চম্বল এক্সপ্রেস ধরবে। প্ল্যাটফর্মে অপেক্ষা করাকালীন জওয়ান ইউপিআই অ্যাপের মাধ্যমে কাউকে টাকা পাঠাচ্ছিলেন। ওই দুই যুবক সেটি ভালোভাবে নজর করে। টাকা পাঠিয়ে অতুল কুমার মোবাইলটি ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখেন। ট্রেন এসে পড়ে। তাঁর কাছে অনেকগুলি বড় ব্যাগ ছিল। তাই ওই দুই যুবক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে একটি ব্যাগ ট্রেন পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া শুরু করে। লক্ষণীয় হল, যে ব্যাগে জওয়ান মোবাইলটি রেখেছিলেন, সেই ব্যাগ নিয়ে যায় সে। ট্রেনের দিকে হাঁটতে শুরু করার মাঝে ব্যাগ থেকে তারা মোবাইলটি তুলে নেয়। তারপর টিকিট কাটার কথা বলে তারা ভিড়ের মধ্যে মিশে যায়। ওই জওয়ান ট্রেনে উঠে মোবাইল খুঁজতে গিয়ে পাননি। প্রয়াগরাজ পৌঁছে তিনি নতুন হ্যান্ডসেট ও সিম নেন। ফোন চালু করার পর তাঁর কাছে মেসেজ এলে জানতে পারেন, অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লক্ষ ৯২ হাজার টাকা উধাও। তিনি স্থানীয় থানায় অভিযোগ করেন। ২৬ ফেব্রুয়ারি এসে হাওড়া জিআরপিতেও অভিযোগ করেন। এর মাঝে আরপিএফের এক কনস্টেবলও একই কায়দায় চুরি ও জালিয়তির অভিযোগ করেন। ইউপিআই লেনদেনের মাধ্যমে তাঁর ৪৮ হাজার টাকা খোয়া যায়।

    তদন্তে নেমে পুলিশ হাওড়া স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে ওই দুই যুবককে চিহ্নিত করে। সিআইএসএফ জওয়ানকে দু’জনের ভিডিও দেখানো হলে তিনিও নিশ্চিত করেন। তখন পুলিশ ফাঁদ পেতে দু’জনকে পাকড়াও করে। ধৃতরা জেরায় তাদের এই কৌশলের কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি জিআরপির। এভাবে তারা কতজনের টাকা হাতিয়েছে, অ্যাকাউন্টে লেনদেনের সূত্র ধরে তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
  • Link to this news (বর্তমান)