রাহুল চক্রবর্তী, কলকাতা: রাস্তাই রাস্তা দেখায়! বাস্তব সত্যটা আবারও প্রমাণ করে দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈধ নাগরিকদের যখন বাদের খাতায় ফেলে দেওয়ার ভূরি ভূরি অভিযোগ কমিশনের বিরুদ্ধে উঠেছে, তখন দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা। সেইসঙ্গে বাংলার মানুষের স্বার্থে বিজেপি এবং কমিশন-বিরোধী লড়াইটা নামিয়ে এনেছিলেন কলকাতার রাজপথে। কোর্ট এবং পথ—দুয়ের সংমিশ্রণে জয় এসেছে বলেই মঙ্গলবার দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী। আর সেই সূত্রেই সুপ্রিম কোর্টের উপর আস্থা রেখে ধর্মতলা থেকে ধরনা ‘আপাতত’ তুলে নিলেন তিনি। সেইসঙ্গে তাঁর দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা, ‘ধর্মতলার এই ঐতিহাসিক প্রাঙ্গনে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে। এখান থেকেই সিঙ্গুর আন্দোলনের জয় এসেছে। এখান থেকেই বাংলার মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলনের জয় আসবে।’
গত শুক্রবার ধর্মতলায় ধরনা শুরু করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই কর্মসূচি মঙ্গলবার পঞ্চম দিন অতিক্রম করে। ঘটনাচক্রে এদিন যখন কলকাতার প্রাণকেন্দ্রে সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তায় বসে রয়েছেন মমতা, তখন কলকাতাতেই তাঁর সফর-কর্মসূচি শেষ করছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তাই ধরনা মঞ্চেই ‘ভ্যানিশ’ নাম দিয়ে ছবি আঁকেন তিনি। এই ছবি যে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ করে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মমতা উল্লেখ করেছেন, কমিশনের তুঘলকি কাণ্ডে বহু সাধারণ মানুষের প্রাণ গিয়েছে। তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই এই ছবি।
এই সূত্র ধরেই দিনভর আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। কিন্তু তার মধ্যেই দিল্লি থেকে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ এবং পর্যবেক্ষণ কানে আসে তাঁর। ধরনা মঞ্চে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা। জেনে নেন আদালত কী কী নির্দেশ দিয়েছে। মানুষের স্বার্থে শীর্ষ আদালতের একের পর এক নির্দেশিকাকে জয় হিসাবেই দেখছেন তিনি। মমতা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের তুঘলকি কর্মকাণ্ডে যখন বৈধ ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছিল, তখন দেশের সর্বোচ্চ আদালত বন্ধ দরজা খুলে দিয়েছে। এটা বাংলার মানুষের জয়। বাংলার প্রতি বিশেষ নজর দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি তারা এটাও স্পষ্ট বলে দিয়েছে, কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ গিয়ে থাকলে, নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত তিনি আদালতের দারস্থ হতে পারবেন।’ দলের সব নেতা-কর্মীকে মমতার নির্দেশ, ‘ভোট আসছে। মিটিং-মিছিল চলবে। কিন্তু যাঁদের নাম বিচারাধীন আছে, তাঁদের পাশে থাকুন। তাঁদের জন্য লড়াই করুন। আদালতের নির্দেশ মেনে যাঁরা বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনালে যাবেন, তাঁদের সহযোগিতা করুন।’ তবে বারবার এদিন দেশের আইন ব্যবস্থার প্রতি ভরসা দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই আস্থাতেই মঞ্চে উঠে মমতাকে আরও একবার অভিষেক অনুরোধ করেন ধরনা তুলে নেওয়ার জন্য। শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে সেনাপতির এই অনুরোধ ফেলতে পারেননি নেত্রী। তবে মঞ্চে উপস্থিত প্রত্যেক কর্মী-সমর্থকের অনুমতি নেন তিনি। তারপরই ঘোষণা করেন ধরনা কর্মসূচি তুলে দেওয়ার।