‘বিচারাধীন’দের দায়িত্ব এড়িয়েই ভোট ঘোষণা! জ্ঞানেশের ইঙ্গিতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাহলে কি ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের অধিকার নিশ্চিত করার আগেই পশ্চিমবঙ্গে ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে? দু’দিনের রাজ্য সফর শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সরাসরি এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও, বিচার বিভাগের দোহাই দিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা ঘোষণা করেছেন তিনি। আর তাতে ওই ৬০ লক্ষ বঙ্গবাসীর উল্লেখ নেই! এতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূল বলছে, পুরোটাই চক্রান্ত। বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটারদের বাদ রেখেই ভোটে যেতে চাইছে কমিশন। এটা বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া ছাড়া কিছুই নয়।
এদিন জ্ঞানেশ কুমার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, ‘আমরা দু’দিন ধরে রাজনৈতিক দল এবং ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক আধিকারিকের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এবার দিল্লিতে যাবতীয় বিষয় পর্যালোচনার পর ভোট ঘোষণা করা হবে।’ প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি অ্যাডজুডিকেশন তালিকা প্রকাশের আগেই ভোট ঘোষণা হয়ে যাবে? এই প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ এড়িয়ে যান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। বরং বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে বিচারকরা ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ করছেন। সেই কাজ এগিয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মতো তালিকা প্রকাশ করা হবে।’ অর্থাৎ, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার থেকে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের বিষয়টি সুকৌশলে আলাদা করে দিয়েছেন তিনি। বরং তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, ‘জন প্রতিনিধিত্ব আইন মোতাবেক এসআইআর প্রক্রিয়ার পর গত ২৮ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে। এবং সেই তালিকা থেকে বিচারাধীন ভোটারের সংখ্যা বাদ দিলে পশ্চিমবঙ্গে ভোটার সংখ্যা দাড়াচ্ছে ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯।’ অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তালিকা থেকে ১ কোটি ২০ লক্ষ কম। জ্ঞানেশ কুমার এও বলেছেন, ‘সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যাঁরা ভারতীয় নাগরিক বলে গণ্য হবেন, শুধুমাত্র তাঁরাই ভোটাধিকার পাবেন।’ অতএব ইঙ্গিত স্পষ্ট বিচারাধীন তালিকা প্রকাশ না হলেও শীঘ্রই রাজ্যে ভোট ঘোষণা করে দিতে পারে কমিশন। জ্ঞানেশ কুমারের এদিনের বিবৃতির পর রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আসলে এই বিচারাধীন ভোটারের দায় সুপ্রিম কোর্টের উপরই চাপাতে চাইছে কমিশন। ঠিক সেই কারণে জেনেবুঝে সাপ্লিমেন্টারি তালিকা সংক্রান্ত প্রশ্নে নীরব থেকেছেন জ্ঞানেশ কুমার। কমিশন চাইছে ভোট ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে শীর্ষ আদালত হস্তক্ষেপ করুক। সেক্ষেত্রে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে, তার দায় কমিশনের উপর বর্তাবে না।