• ‘রাজ্যে অবাধ-হিংসামুক্ত ভোট আয়োজনে বদ্ধপরিকর কমিশন’, দিল্লি ফিরে দফা নিয়ে সিদ্ধান্ত: জ্ঞানেশ কুমার
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে অবাধ ও হিংসামুক্ত ভোট করাতে বদ্ধপরিকর কমিশন। কোনোরকম কারচুপি বরদাস্ত করা হবে না। ভোটের কাজে যুক্ত প্রত্যেক আধিকারিককে একমাত্র কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা নেতার নির্দেশে কাজ করলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের বিরুদ্ধে। ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠলে কড়া পদক্ষেপ করবে নির্বাচন কমিশন। দু’দিনের রাজ্য সফর শেষে মঙ্গলবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

    তিনি বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের ভোট হবে অবাধ, শান্তিপূর্ণ। কোনোরকম হিংসা বরদাস্ত করা হবে না। আধিকারিকদের সেই মতো নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, ভোটের কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ভয় দেখানো বা হুমকি দেওয়া যাবে না। এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। বৈধ কারও নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না বলেও দাবি করেছেন তিনি। পশ্চিমবঙ্গে কত দফায় ভোট হবে, তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে ঠিক করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বলেছেন, ‘কত দফায় ভোট হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলি পরামর্শ দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দিল্লি ফিরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

    নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এদিন একগুচ্ছ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন জ্ঞানেশ। তিনি বলেন, ‘ভিভিপ্যাটের সঙ্গে ইভিএমের তথ্যে গরমিল দেখা গেলে পুরোটাই পরীক্ষা করে দেখা হবে। আর তা করা হবে কাউন্টিং এজেন্টের সামনেই।’ নির্বাচনের দিন দু’ঘণ্টা অন্তর কমিশনের অ্যাপ এবং সাইটে ভোটের হার প্রকাশ করা হবে। কোনো প্রার্থী চাইলে নির্বাচনের পর সাত দিনের মধ্যে ইভিএম পরীক্ষা করানো যাবে। পশ্চিমবঙ্গে বুথ সংখ্যা যে বাড়ছে, তা আগেই জানা গিয়েছিল। জ্ঞানেশ কুমারের কথায়, ‘রাজ্যে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র বা বুথ থাকবে। কোনো বুথে ১২০০-র বেশি ভোটার থাকবেন না। স্বচ্ছতার খাতিরে প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে।’ তিনি আরও জানিয়েছেন, প্রতিটি বুথে ভোটার সহায়তা কেন্দ্র, পানীয় জলের বন্দোবস্ত এবং বাইরে মোবাইল ফোন রাখার জায়গা থাকবে। এসআইআরের কাজ করতে গিয়ে বিএলও’র মৃত্যু বা নাম কাটা যাওয়ার উদ্বেগে শতাধিক মৃত্যু নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। তৃণমূল যে তাঁকে ‘ইমপিচমেন্ট’ করার তোড়জোড় চালাচ্ছে, সে বিষয়েও নিরুত্তর থাকেন জ্ঞানেশ কুমার। এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে তিনি ছাড়াও ছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার বিবেক যোশি, এবং সুখবীর সিংহ সান্ধু। ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালও।

    রাজ্য সফরের শেষ দিনের সকালে বেলুড় মঠে যান জ্ঞানেশ কুমার। সেখানে মন্দির দর্শন ও মহারাজদের দেখা করেন। তারপর তিনি যান দক্ষিণেশ্বরে। দুই জায়গাতেই তাঁকে কালো পতাকা দেখানো হয়। এরপর নিউটাউনের হোটেলে ফিরে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজি’র সঙ্গে বৈঠক করে জ্ঞানেশের নেতৃত্বাধীন ফুল বেঞ্চ। সাংবাদিক বৈঠক শেষে দিল্লি উড়ে যান তাঁরা।
  • Link to this news (বর্তমান)