• শাহের পাঠানো নেতারা বঙ্গ বিজেপির কোনো কথা‌ই শুনছেন না! পদ্মশিবিরে কোন্দল চরমে
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কথায় আছে, ‘অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’। বঙ্গ বিজেপির বর্তমান হাল অনেকটা এমনই! বিধানসভা ভোটের মুখে ঘরোয়া কোন্দলে জেরবার রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। বঙ্গের বিজেপি নেতাদের ক্ষোভের মুখে দুই কেন্দ্রীয় নেতা, স্বয়ং অমিত শাহ যাঁদের বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে বাংলায় পাঠিয়েছিলেন। তাঁরা হলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল ও কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভুপেন্দ্র যাদব। প্রথমজন কেন্দ্রীয় পার্টির তরফে বাংলার দায়িত্বে অর্থাৎ পর্যবেক্ষক। অপরজন নির্বাচনি পর্যবেক্ষক পদে রয়েছেন। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সংগঠন ও নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন ভিন রাজ্যের এই দুই নেতা। ভোটের প্রাক্কালে তাঁদের নিয়েই অসন্তোষ বাড়ছে রাজ্য বিজেপির নেতাদের। বঙ্গ নেতাদের দাবি, একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হয়ে সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন এই দু’জনই। রাজ্য নেতৃত্বের বক্তব্য কিংবা পরামর্শ তাঁরা গ্ৰহণ করছেন না। শুধু তাই নয়, ঘরোয়া বৈঠকে আদি বিজেপি নেতারা কারণে-অকারণে প্রকাশ্যে তিরস্কৃত হচ্ছেন। এই ব্যবহারে অনেকেই ব্যাথিত। এই অবস্থায় বাগবিতণ্ডায় না গিয়ে অনেকেই রাজ্য বিজেপির বৈঠকে আসাই বন্ধ করে দিয়েছেন বলে খবর। এমনকি, রাজ্য কমিটির পদাধিকারী কয়েকজন নেতা-নেত্রীকে ‘পঙ্গু’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অর্থাৎ, তাঁদের কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ওই কেন্দ্রীয় নেতারা অভিজাত হোটেলে বসে দলের গুরুত্বপূর্ণ রণকৌশল স্থির করছেন। কাউকে না জানিয়ে এমন সব ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন কিংবা গুরুত্ব দিচ্ছেন, যাঁরা তলায় তলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলছেন।

    এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেন, ‘২০২১ সালে কৈলাশ বিজয়বর্গীয় এই ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। যার খেসারত দিতে হয়েছে আমাদের। ভোট পরবর্তী হিংসায় শ’য়ে শ’য়ে মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আর উনি বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হয়ে বসে রয়েছেন। এবার ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে আমরা কয়েকজন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই কেন্দ্রীয় নেতার এই ধরনের কাজকর্ম নিয়ে আমরা উপযুক্ত জায়গায় অভিযোগ জানিয়েছি। কাজের কাজ আদৌ হবে কি না, তা সময় বলবে। নিচুতলার কর্মী-নেতারা ঘাম-রক্ত দিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। এই পরিস্থিতিতে ভোটের আগে দলের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন ক্ষেত্রকে এভাবে দূর্বল করা নির্বুদ্ধিতা। তাই আমরা দিল্লিতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিষয়গুলি আগাম জানিয়ে সতর্ক করছি।’ এতে কোনো কাজ না হলে সেই পুরানো ‘সেটিং তত্ত্ব’ই ফের উসকে উঠবে বলে মন্তব্য করেন ওই বিজেপি নেতা।
  • Link to this news (বর্তমান)