• বাণিজ্যিক সিলিন্ডার নিয়ে কমিটি গড়ল কেন্দ্র, সংকটের মুখে সরকারের দিকে তাকিয়ে হোটেল-রেস্তরাঁ শিল্প
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রান্নার গ্যাস নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। ডেলিভারির ২৫ দিন পর গ্যাস বুকিংয়ের যে নিয়ম কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে, তা নিয়ে যেমন চিন্তা রয়েছে, তেমনই বারবার চেষ্টা করেও গ্যাস বুকিং করতে পারছেন না বহু গ্রাহক। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের গ্রাহকরা। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক সরকারিভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বিক্রি করা হবে না। শুধুমাত্র চিকিৎসা পরিষেবা ও শিক্ষাক্ষেত্র ছাড়া আপাতত কোনও শিল্পে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ থাকবে। ফলে ব্যবসা বন্ধের আশঙ্কায় মাথায় হাত লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ীর। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টরদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করা হয়েছে। বাণিজ্যিক গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়টি কী পরিস্থিতিতে রয়েছে, তা খতিয়ে দেখবে ওই কমিটি। তবে সিলিন্ডার কবে থেকে দেওয়া শুরু হবে, সেব্যাপারে মুখে কুলুপ এঁটেছে কেন্দ্র। হোটেল থেকে শুরু করে খাবারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীরা কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির কাছে আশু সমাধানের জন্য দরবার শুরু করেছেন। এরাজ্য থেকে চিঠি যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও।

    ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার মহাসচিব প্রকূল কুমারের আরজি, তাঁদের দিকটিও বিবেচনা করা হোক। কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরিকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, পাঁচ লক্ষেরও বেশি রেস্তরাঁ এদেশে ব্যবসা করছে, যারা বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের উপরে নির্ভরশীল। তার জোগান বন্ধ হয়ে গেলে বিপাকে পড়বে রেস্তরাঁ শিল্প। যেখান থেকে বছরে ৫ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা হয়, সেই শিল্পের উপর নির্ভর করে থাকেন ৮০ লক্ষ মানুষ। কারণ, রেস্তরাঁই তাঁদের রুটি-রুজির সংস্থান করে। সংগঠনের কলকাতা চ্যাপ্টারের কর্তা পীযূষ কাংকারিয়া বলেন, এই শহরেও পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন পর্যায়ে পৌঁছাতে শুরু করেছে। কীভাবে এই সমস্যার সমাধান আমরা করব, জানি না। মন্ত্রীর কাছে আমরা চিঠি লিখেছি। আশা করছি, শীঘ্রই কোনো সমাধান সূত্র বেরবে।

    বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আরজি জানিয়েছে মিষ্টান্ন ও নিমকি নির্মাতা সংস্থাগুলির সর্বভারতীয় সংগঠন ফেডারেশন অব সুইটস অ্যান্ড নমকিন ম্যানুফ্যাকচারার্স। তাদের বক্তব্য, এই ক্ষেত্র থেকে ব্যবসা হয় বছরে ১ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকার। শুধু যে এই শিল্পই সংকটে পড়বে, তা নয়। ডেয়ারি, ভোজ্য তেল, চিনি, প্যাকেজিং থেকে শুরু করে রিটেল ব্যবসাও বড়ো রকমের ধাক্কা খাবে। তাদের আরজি, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বাদ রাখা হোক মিষ্টান্ন ও নিমকি ব্যবসাকে। বাংলার মিষ্টান্ন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মিষ্টি উদ্যোগের সভাপতি ধীমান দাশ বলেন, আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিষয়ে চিঠি দিচ্ছি। যদিও গ্যাসের জোগান কেন্দ্রীয় সরকারের বিষয়, তবু আমরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদক্ষেপের আরজি রাখছি। তার কারণ, এর আগে করোনা পর্বে লকডাউনের সময় মুখ্যমন্ত্রী আমাদের দাবি মেনে মিষ্টান্ন ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ শিথিল করেছিলেন। যেহেতু এই ব্যবসার সঙ্গে ডেয়ারি বা দুধ জড়িত, তাই মিষ্টি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ডেয়ারি শিল্প সংকটে পড়বে। গোরু বা মোষের ঠাঁই হবে কসাইখানায়। পাশাপাশি রান্নার গ্যাসের বিকল্প হিসাবে শিল্পক্ষেত্রের জন্য যে ইনডাকশন কুকার পাওয়া যায়, তার দাম ন্যূনতম দেড় লক্ষ টাকা। ছোটো ব্যবসায়ীদের পক্ষে সেই খরচ রাতারাতি করা সম্ভব নয়। তাই আমাদের আশা, সরকার বিষয়টি বিবেচনা করে সমাধানের উদ্যোগ নেবে।
  • Link to this news (বর্তমান)