কম্পিউটারই নেই দেশের ২১ শতাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে, নজরে ১১টি ডবল ইঞ্জিন রাজ্য
বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
প্রীতেশ বসু, কলকাতা: ক্ষমতায় আসার কয়েকমাসের মধ্যেই ভারতবাসীকে ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’র স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন প্রধনমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারপর কেটে গিয়েছে একদশকের বেশিকাল। অথচ, ভারতে হাজারে হাজারে গ্রাম পঞ্চায়েত রয়ে গিয়েছে যেখানে এখনো একটা কম্পিউটার পর্যন্ত বসানো সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রেই রিপোর্ট অনুয়াযী, দেশের মোট ২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৮৯টি গ্রাম পঞ্চায়েতের (জিপি) মধ্যে কম্পিউটার নেই দেশের ২১ শতাংশ বা ৫৬ হাজার ৩৮১টি জিপিতে। মোদি সরকারই এই রিপোর্টে জানিয়েছে, গুজরাত, অসম, ত্রিপুরা, বিহার, অন্ধ্রপ্রদেশ, অরুণাচল প্রদেশ, ছত্তিশগড়, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশাসহ ১১টি ডবল ইঞ্জিন রাজ্যে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ন্যূনতম একটি কম্পিউটার পৌঁছানোর বিষয়টি এখনো অধরা।
ডিজিটাল দুনিয়ায় নয়া রেকর্ড গড়েছেন নরেন্দ্র মোদি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ইনস্টাগ্রামে বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্রনেতা হিসাবে ১০ কোটি ফলোয়ারের পর মোদির ইউটিউবেও সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ছাড়িয়েছে তিন কোটি! সমাজ মাধ্যমে মোদির এই সফল্যের আবহেই প্রকাশ্যে এসেছে কেন্দ্রের গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রকের সদ্য প্রকাশিত ‘অব পঞ্চায়েতি রাজ ইনস্টিটিউশনস ২০২৫’-এর রিপোর্ট। বিহারের মোট ৮,০৫৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের (জিপি) মধ্যে এখনো কম্পিউটার পৌঁছেছে মাত্র ২,০০০ জিপিতে। একইভাবে উত্তরাখণ্ডের ৪,৯৫৪টি জিপি, ওড়িশার ১,২১৮ জিপি, অসমের ৮৫৮ জিপি এবং গুজরাতের ৪৬৭ জিপিতে পৌঁছায়নি একটিও কম্পিউটার। উত্তরপ্রদেশে প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি করে কম্পিউটার পৌঁছালেও, আর্থিক লেনদেনসহ অন্যান্য অনলাইন অডিটের ক্ষেত্রে যোগীরাজ্যের ‘পারফরর্মেন্স’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, এই রিপোর্টেই উঠে এসেছে যে উত্তরপ্রদেশে জেলা পরিষদ স্তরে ৭০টি, পঞ্চায়েত সমিতি স্তরে ৪৩২টি এবং গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে প্রায় ৩০ হাজার অনলাইন অডিট হওয়ার কথা ছিল ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে। জিপি স্তরে ২২টি অনলাইন অডিট জমা পড়লেও বাকি দুই স্তরে এই সংখ্যা ‘শূন্য’। এবিষয়ে রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন, ‘কেন্দ্রের রিপোর্টই প্রমাণ করে দিচ্ছে ডাহা ফেল করেছে মোদির ডিজিটাল ইন্ডিয়া। আর সেটা তাদেরই রাজ্যে।’
তবে গেরুয়া রাজ্যগুলির ঠিক উলটপুরাণ হিমাচল প্রদেশ, কেরল, পশ্চিমবঙ্গের মতো অবিজেপি বা বিরোধি রাজ্যগুলিতে, যেখানে এমন একটিও জিপি নেই যেখানে কম্পিউটার ব্যবস্থা নেই। শুধু কম্পিউটার বসানোই নয়, অনলাইন লেনদেন চালু করে স্বচ্ছতা বৃদ্ধিসহ সামগ্রিক ‘ডিজিটাল পঞ্চায়েত’ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও এই রাজ্যগুলির অগ্রগতির হার যথেষ্ট পিছনে ফেলেছে অন্যান্য রাজ্যকে।
বেশ কয়েকবছর ধরেই দেশজুড়ে চালু রয়েছে রাষ্ট্রীয় গ্রাম স্বরাজ অভিযান। যার লক্ষ্য হল পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সদস্যদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলিকে শক্তিশালী করা। এরই মধ্যে রয়েছে ‘ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত’ ব্যবস্থাকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার অংশ করে তোলাও। এই রিপোর্টেই কেন্দ্রের দাবি, এই প্রকল্রে বিগত ছ’বছরে সর্বাধিক টাকা পাওয়ার তালিকায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ। পেয়েছে প্রায় ৪৯২ কোটি টাকা। অথচ, এই ছ’বছরের সময়কালে মাত্র ২ লক্ষ ৯১ হাজার ৬১৮ জন পঞ্চায়েত প্রতিনিধিকে প্রশিক্ষণ দিতে সক্ষম হয়েছে যোগীর সরকার। একই চিত্র অসমেও। তারা ২৭৩ কোটি পেয়েও প্রশিক্ষণ দিয়েছে ১১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৪৪৮ জনকে। অথচ, মাত্র ১৮৩ কোটি টাকা পেয়েও পশ্চিমবঙ্গে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে ১৯ লক্ষ ৫৫ হাজার ৮৮৩ জন পঞ্চায়েত প্রতিনিধি ও আধিকারিককে।