• কংক্রিট ব্লকের জোগান চাহিদার চেয়ে কম, ‘পথশ্রী’র রাস্তা দ্রুত শেষ করা নিয়ে চিন্তা
    বর্তমান | ১১ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের ৪০টি পুর এলাকায় রাস্তা তৈরির জন্য দরকার প্রায় ১০ কোটি কংক্রিট ব্লক! কিন্তু চাহিদার তুলনায় জোগান অনেকটাই কম। এই পরিস্থিতিতে কেএমডিএ’র আওতায় পথশ্রী প্রকল্পের চতুর্থ পর্যায়ে রাস্তার কাজ তাড়াতাড়ি করা সম্ভব কীভাবে? তা ভেবেই চিন্তিত প্রশাসন। কংক্রিট ব্লকের জোগান বৃদ্ধিতে ঠিকাদার সংস্থার সংখ্যা বাড়াতে চায় কেএমডিএ। তবে তাতে হিমশিম অবস্থা কর্তাদের।

    রাজ্যের পুরসভাগুলিতে ১০ হাজারের বেশি রাস্তা নতুনভাবে তৈরি হচ্ছে অথবা পুরানো রাস্তার সংস্কার করা হচ্ছে। সর্বমোট ২৮৪৭.০৫ কিমি রাস্তার কাজ হচ্ছে পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের আওতায়। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাস্তা তৈরি করছে কেএমডিএ। ৫,৬১৬টি রাস্তার মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১৩০০ কিমি। তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ কংক্রিট ব্লকের। ঢালাই এবং পিচ দিয়ে হবে বাকিটা। কেএমডিএ সূত্রের খবর, ৪০টি পুর এলাকার জন্য ১০ কোটির মতো কংক্রিট ব্লক প্রয়োজন। কিন্তু জোগান ততটা নেই। দৈনিক গড়ে চার-সাড়ে চার হাজারের বেশি কংক্রিট ব্লক পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ১০ কোটি ব্লক কতদিনে মিলবে তা ভেবেই হতাশ আধিকারিকরা। একলপ্তে এই বিপুল সংখ্যক কংক্রিট ব্লক তৈরির পরিকাঠামো কোনো ঠিকাদার সংস্থার নেই। এক আধিকারিক জানান, মাত্র সাত-আটটি সংস্থা এই ব্লক সরবরাহ করছে। কিন্তু তাদের পরিকাঠামো দুর্বল। দিনে পাঁচ হাজার কংক্রিট ব্লক সরবরাহ করারও সংগতি নেই তাদের। তবে উৎপাদন ও জোগান দ্রুত বৃদ্ধির জন্য ঠিকাদার সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছি আমরা।

    ওই আধিকারিক উদাহরণ দিয়ে বলেন, শুধু ভাটপাড়াতেই ৭০ লক্ষ কংক্রিট ব্লক প্রয়োজন। বিভিন্ন রাস্তায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। ভারী গাড়িও চলাচল করে। এসব মাথায় রেখেই ৭৫ শতাংশ রাস্তার কাজ কংক্রিট ব্লকে করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফি-বছর রাস্তা তৈরির খরচ এড়াতেই এবার টেকসই নির্মাণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কাজের গতি এমনিতেই কিছুটা ধীর। তার মধ্যে এখনো হাজার খানেক রাস্তার ওয়ার্ক অর্ডারই হয়নি। সেক্ষেত্রে নির্বাচন ঘোষণার আগে যত দ্রুত সম্ভব ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে কাজগুলি শুরু করে দিতে চান অফিসাররা।

    উল্লেখ্য, মাত্র ৭ থেকে ১০ শতাংশ রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। কেন এই পরিস্থিতি? এই প্রসঙ্গে অফিসাররা জানাচ্ছেন, রাস্তার তালিকা পাওয়া গিয়েছে অনেক দেরিতে। তারপর ফান্ড বরাদ্দ হয়েছে। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হতেও লেগেছে কিছুটা সময়। কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার নিম্নহার এজন্যই। তবে, এখন কাজ চলছে জোরকদমে। শতাংশের বিচারে অনেক কাজ এমাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ হয়ে যাবে।
  • Link to this news (বর্তমান)