নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: স্থায়ী চাকরির দাবিতে নবান্ন অভিযানে নামা রাজ্য সরকারের সিভিল ডিফেন্স কর্মীদের বিক্ষোভকে ঘিরে মঙ্গলবার হাওড়ার ফোরশোর রোডে উত্তেজনা ছড়াল। পুলিশের সঙ্গে বচসা ও ধস্তাধস্তির পর শেষ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করে বিভিন্ন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে হাওড়া স্টেশন চত্বরে জড়ো হন সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা। সেখান থেকে প্রায় দু’শো আন্দোলনকারী মিছিল করে ফোরশোর রোড ধরে তেলকল ঘাটের দিকে এগতে থাকেন। সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে হাওড়া সিটি পুলিশের একটি বড়ো বাহিনী ওই মিছিলকে ঘিরে রাখে। পদস্থ আধিকারিকরা পুরো পরিস্থিতির উপর নজর রাখছিলেন। তেলকল ঘাটের কাছে পৌঁছতেই পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে মিছিল আটকে দেয়। প্রথমে ঠিক ছিল, ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান করে প্রতিবাদ জানানো হবে এবং এক প্রতিনিধিদল নবান্নে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেবে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা আচমকা বদলে যায়। আন্দোলনকারীদের একাংশের দাবি, তাঁরা সরাসরি কলকাতার ধর্মতলায় গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধরনা মঞ্চে নিজেদের দাবি জানাতে চান। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরেই পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের তর্কাতর্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে। এর মধ্যেই কয়েকজন আন্দোলনকারী আচমকা ফোরশোর রোড ধরে হাওড়া স্টেশনের দিকে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের পরিকল্পনা ছিল, হাওড়া ব্রিজ পেরিয়ে ধর্মতলায় যাওয়া। তবে পুলিশ দ্রুত ধাওয়া করে আন্দোলনকারীদের ধরে ফেলে। এরপর কয়েকটি গাড়িতে তুলে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের শিবপুর, গোলাবাড়ি ও হাওড়া থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, রাজ্যে প্রায় পাঁচ হাজার সিভিল ডিফেন্স কর্মী এখনও অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করছেন। দৈনিক মজুরি ৬৪৮ টাকা হলেও নিয়মিত কাজ জোটে না বলে তাঁদের দাবি। আন্দোলনকারী শেখ রবিউল ইসলাম বলেন, ‘অধিকাংশ কর্মী মাসে পুরো সময় কাজ পান না। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে আমরা নবান্ন অভিযানে শামিল হয়েছিলাম।’ এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশকর্মী মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথম দিকে কিছুক্ষণ উত্তেজনা থাকলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।