সুশান্ত বণিক, আসানসোল
শহরের রাস্তা তৈরির জন্য শতাধিক বছর আগে আসানসোলে আনা হয়েছিল বাষ্পচালিত রোড রোলার। কালের নিয়মে সেগুলি এখন অব্যবহারযোগ্য। অযত্ন, অবহেলায় পড়ে রয়েছে। আগাছার জঙ্গল জন্ম নিয়েছে তার উপরে। এ হেন যন্ত্র দু’টি উদ্ধার করে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আসানসোল পুর কর্তৃপক্ষ। একটি উদ্যান বানিয়ে ওই যন্ত্র দু’টি সাধারণের দেখার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মেয়র বিধান উপাধ্যায়।
সম্প্রতি আসানসোল পুরসভার বাজেট অধিবেশনে শহরের সৌন্দর্যায়ন–সহ একাধিক উদ্যান তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর জন্য প্রায় দু’কোটি টাকার ব্যয় হবে। সেই কাজে হাত পড়েছে। আসানসোলে ভগৎ সিং মোড় লাগোয়া জঙ্গল ঘেরা অঞ্চল সাফাই করার সময়ে বাষ্পচালিত রোড রোলার দু’টি পুরকর্মীদের নজরে পড়ে। এর পরে পুরসভার ইঞ্জনিয়াররা বিষয়টি নিয়ে খোঁজ শুরু করেন। জানা যায়, দেশ স্বাধীন হওয়ার অনেক আগে যন্ত্র দু’টি শহরের রাস্তা তৈরি করতে আনা হয়েছিল। পরে সেগুলি ক্রমশ অব্যবহারযোগ্য হয়ে পড়ে। মেয়রের মন্তব্য, ‘আমরা এই যন্ত্র দু’টিকে হেরিটেজ হিসেবে সংরক্ষণ করব। পিডব্লিউডি–এর অব্যবহৃত জমিতে সেগুলি রয়েছে। ওখানে একটি উদ্যান তৈরি করা হবে। সেখানেই থাকবে যন্ত্র দু’টি। নতুন প্রজন্ম এগুলো দেখে অনেক কিছু জানতে পারবে।’
পুর–কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, এই যন্ত্র দু’টি ইংল্যান্ডের মার্শাল অ্যান্ড সন্স কোম্পানি থেকে ১৮৯৬–এর আশেপাশে আমদানি করা হয়েছিল। আসানসোল মূলত রেলশহর। রেল এবং শহরের উন্নয়নের জন্য ১৮৫০–এ একটি ইউনিয়ন কমিটি তৈরি হয়। সেই কমিটি ১৮৮৫–তে পুরসভা গঠনের প্রস্তাব করে। ১৮৯৬–এ সালে আসানসোল পুরসভার আত্মপ্রকাশ। পুর কর্তৃপক্ষের ধারণা, সেই সময়ে এই বাষ্পচালিত রোড রোলার দু’টি কেনা হয়েছিল। কাঠ বা কয়লা থেকে বাষ্প তৈরি করে এই রোলার দু’টি চালানো হতো। তবে কত দিন ওই যন্ত্র দু’টি ব্যবহার করা হয়েছিল, সে সম্পর্কে কোনও তথ্য পুর কর্তৃপক্ষ দিতে পারেননি।
এই শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজে এই যন্ত্রগুলির যে অবদান ছিল, তাকে স্মারক হিসেবে সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুরসভা। মেয়র জানিয়েছেন, আপাতত যন্ত্র দু’টি পরিষ্কার করে রাখা হবে। বিধানসভা নির্বাচনের পরে পিডব্লিউডি–এর অনুমতি নিয়ে জঙ্গল সাফাই করে সেখানে বাগান তৈরি করে যন্ত্র দু’টি সাজিয়ে রাখা হবে।