মোবাইলে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভিডিয়ো শুভেচ্ছা-বার্তা আসার পরে ঘন ঘন ‘অ্যাকাউন্ট ব্যালেন্স’ পরীক্ষা করছিলেন মেদিনীপুর শহরের সুব্রত চক্রবর্তী। মঙ্গলবার সুব্রত বলেন, ‘‘দেখলাম, টাকা ঢোকেনি। দেখা যাক, কী হয়!’’ রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণের একাধিক জেলায় মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই। কিছু জেলায় সে টাকা মিলেছে বলে জানিয়েছেন উপভোক্তারা। তবে আবেদনকারীর তুলনায় সে সংখ্যা অনেক কম। জেলা প্রশাসনগুলি জানিয়েছে, তারা আবেদনকারীদের নথি পরীক্ষা করে রাজ্যকে জানাচ্ছে। টাকা পাঠানোর কথা রাজ্যের। শুধু ‘যুব সাথী’ নয়, একাধিক জেলায় ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তারাও চলতি মাসের টাকা এখনও পাননি বলে দাবি।
এ দিন সকালে হুগলির সাহাগঞ্জের বাসিন্দা শেখ মুজফফর হোসেনের মোবাইলে মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বার্তা-সহ ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের টাকা ঢোকার বার্তা ঢোকে। কিন্তু ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারেন, টাকা ঢোকেনি। উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের অংশু সাহার দাবি, ‘‘দিন কয়েক আগে মোবাইলে মেসেজ ও ভিডিয়ো পেয়েছি। কিন্তু মঙ্গলবার পর্যন্ত টাকা পাইনি।’’
নদিয়ায় ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের আবেদন জমা পড়েছে সাড়ে তিন লক্ষ। সোমবার পর্যন্ত পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে ৬৫,৫৩৮ জনের নাম। প্রশাসন সূত্রের খবর, যত আবেদন জমা পড়েছে তার অনেকটাই ব্লক অফিসের পক্ষে নির্দিষ্ট পোর্টালে ‘আপলোড’ করা যায়নি। পঞ্চায়েত দফতরগুলিতে সেগুলি ‘আপলোড’-এর জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের আর একটি সূত্রের দাবি, যাঁরা অনলাইনে আবেদন করেছিলেন তাঁরা টাকা পেয়েছেন। যাঁরা নিজেরা শিবিরে গিয়ে ফর্ম পূরণ করে জমা দিয়েছেন, তাঁদের ফর্ম অনলাইনে তোলা হচ্ছে। তার পরে তাঁরা টাকা পাবেন। তা হলে আগে বার্তা যাচ্ছে কেন? প্রশাসন সূত্রের দাবি, আবেদনকারীর তথ্য যাচাই হওয়ার পরে, মোবাইল নম্বর অনলাইন পোর্টালে তোলা হলে বার্তা যায়।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার আবেদনকারী নারায়ণ চক্রবর্তীও বার্তা পেয়েছেন। টাকা পাননি। তাঁর ক্ষোভ, ‘‘ভোটের আগে ভাঁওতা দেওয়া হচ্ছে।’’ তবে প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, অনেক আবেদন এখনও যাচাই করা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, আবেদনকারী মাধ্যমিক অনুত্তীর্ণ। কারও বয়স পেরিয়ে গিয়েছে। কেউ ইতিমধ্যেই ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তা। সে সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মালদহের ইংরেজবাজারের বাসিন্দা আদর্শ সাহা বলেন, ‘‘সোমবার যুব সাথীর টাকা ঢুকেছে। তা দিয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ফি দিলাম।’’ মুর্শিদাবাদের ডোমকলের কুপিলা খাতুনও ‘যুব সাথী’র টাকা পেয়েছেন সোমবার। টাকা পৌঁছেছে দার্জিলিং, কালিম্পংয়ের একাংশে।
ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইলের রাজীব মণ্ডলের দাবি, তাঁর মোবাইলে আসা বার্তায় জানানো হয়েছে ১,৫০০ টাকা ঝাড়গ্রাম ট্রেজারি থেকে ছাড়া হয়েছে। কিন্তু সেখানে উল্লিখিত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের শেষ চারটি সংখ্যা তাঁর অ্যাকাউন্ট নম্বরের সঙ্গে মিলছে না। ফলে, টাকা পাননি। ঝাড়গ্রামের অতিরিক্ত জেলাশাসক (উন্নয়ন) অরূপ দত্ত বলছেন, ‘‘এত লক্ষ ডেটা কেন্দ্রীয় ভাবে সংগ্রহ করতে গিয়ে কারও কারও অ্যাকাউন্ট নম্বরের শেষের একটি ডিজিট গরমিল হয়ে থাকতে পারে। ফলে, প্রায় ২০ শতাংশ ট্র্যানজ়্যাকশন সফল হয়নি। সেগুলি সংশোধন করছি। টাকা ঢুকে যাবে।’’
‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’-এর ক্ষেত্রেও ছবিটা খুব উজ্জ্বল নয়। হাওড়া গ্রামীণ, দুই বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার অনেক এলাকায় মার্চ মাসের টাকা মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পাননি অনেক উপভোক্তা। পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনুস রিশিন ইসমাইল বলেন, ‘‘লক্ষ্মীর ভান্ডারে কোন এলাকার উপভোক্তারা টাকা পাননি, দেখা হচ্ছে।’’