জ্বালানির আকালে (LPG) ছেঁকা শুধু হেঁশেলেই নয়, এ বার গণপরিবহণেও পড়তে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় অটোর ভাড়া বাড়ানোর খবর আসছে। সরকারি অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন রুটে নিজেদের মতো করে ভাড়া (Auto Fare Hike) বাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ। যাত্রীদের অনেকেরই অভিযোগ, ইতিমধ্যেই গড়িয়া–বারুইপুর, সোনারপুর–গড়িয়া, বারুইপুর–জুলপিয়া, বারুইপুর–দক্ষিণ বারাসত-সহ একাধিক রুটে অটোর ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
কোথাও ৫ টাকা, কোথাও ১০ টাকা বা তারও বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। যাত্রীরা প্রতিবাদ করলে, মুখের উপর জবাব— জ্বালানির দাম বেড়েছে। ভাড়া তো বাড়বেই। ফলে বেজায় চাপে নিত্যযাত্রীরা। এক লাফে ৫ টাকা বা ১০ টাকা বেড়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাতারাতি ভাড়া বাড়ানো হলো।
অটোচালকরা স্বীকার করছেন যে, বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, সম্প্রতি গ্যাসের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পাম্পে গিয়েও চাহিদা মতো গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। এই অতিরিক্ত খরচ সামাল দিতেই যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি চালকদের একাংশের।
চালকদের আরও দাবি, খরচ বৃদ্ধির কারণে অনেক রুটে অটোর সংখ্যাও কমে গিয়েছে। অটো ইউনিয়নের নেতাদের বক্তব্য, তাঁরা এই অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়াকে সমর্থন করছে না। তবুও বাস্তবে যাত্রীদের বাড়তি ভাড়া দিয়েই গন্তব্যে পৌঁছতে হচ্ছে।
জুলপিয়া রুটের যাত্রী সবিতা পরামাণিকের বক্তব্য, আগে ১৭ টাকা ভাড়া দিতেন। বুধবার থেকে ২৫ টাকা দিতে হচ্ছে। জুলপিয়া-আমতলাগামী অটোর যাত্রী বলাই দাসের দাবি, আগে ১৫ টাকা ভাড়া ছিল, আজ থেকে ২৫ টাকা চাইছে।
জুলপিয়া-আমতলা রুটে অটো চালান আনন্দ সিংহ। তিনি বলেন, ‘আমরা ইচ্ছাকৃত ভাড়া বাড়াতে চাই না। গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আগে ৭০-৭৫ টাকা লিটার কিনতাম। এখন এক এক জন, এক এক রকম নিচ্ছে। প্রতি লিটারে কেউ ১২০ টাকা, কেউ ১৩০ টাকা, কেউ আবার ১৫০ টাকা নিচ্ছে। বাধ্য হয়ে আমরাও যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া চেয়ে নিচ্ছি। কেউ দিচ্ছেন, কেউ আপত্তি করছেন, অটোয় উঠছেন না। আগে জুলপিয়া থেকে বারুইপুর ২০ টাকা ছিল। এখন ২৫ টাকা চাইছি।’
শুধু অটোর ভাড়া বেড়েছে, তা-ই নয়, বহু রুটে অটো সংখ্যায় কম। ফলে যাত্রীরা দীর্ঘ লাইনে নাকাল। গ্যাস নিতে লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে অটো চালাচ্ছেন না অনেকেই।