তৃণমূলের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) স্ত্রী মীরা সুলতানাকে নোটিস মুর্শিদাবাদ জেলার শক্তিপুর থানার পুলিশের। মীরার বিরুদ্ধে সরকারি জলাশয় বুজিয়ে বাড়ি তৈরির অভিযোগ। স্থানীয় বেলডাঙা-২ ব্লক ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর এ ব্যাপারে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি শো-কজ় নোটিস ধরায় মীরাকে। সাত দিনের মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু মীরা সেই নোটিসের জবাব দেননি বলে খবর। এর পরেই শক্তিপুর থানার পুলিশ সে বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মীরাকে নোটিস পাঠায়। বুধবারই তাঁকে হাজির হতে বলা হয়েছে। যদিও স্ত্রী হাজিরা দেবেন না বলে সাফ জানিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর।
হুমায়ুন বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে ওই নোটিস হাতে পেয়েছি। কিন্তু আমার স্ত্রী শক্তিপুর থানায় যাবেন না। যা সিদ্ধান্ত হওয়ার আদালতে হবে। আমি আদালতে এ নিয়ে মামলা করেছি।’ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা-২ ব্লকের শক্তিপুর থানার মানিক্যহার গ্রামে মীরা সুলতানার নামে একটি বাড়ি আছে। সেই বাড়িতেই হুমায়ুন কবীর, মীরা সুলতানা, পুত্র গোলাম নবি আজাদ ওরফে রবিন ও তাঁর স্ত্রী-সহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য থাকেন। অভিযোগ, ‘নালা’ অর্থাৎ জলা প্রকৃতির জমির চরিত্র ‘Viti’তে রূপান্তরিত না করে সেখানে এই বসতবাড়ি তৈরি করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ‘নালা’ প্রকৃতির জমি বলতে সাধারণত জল নিকাশির জন্য ছোট খাল বা ডোবাকে বোঝায়, যা জলাশয় বা কৃষি জমির অংশ হিসেবে গণ্য হয়। আইনত নালা ভরাট করা বা তার চরিত্র পরিবর্তন অবৈধ। এ ক্ষেত্রে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনুমতি ছাড়া কোনও ভাবে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ করা সম্ভব নয়। মীরা ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের কাছ থেকে কোনও রকম প্রয়োজনীয় অনুমতি নেননি বলে অভিযোগ। তাই তাঁকে প্রথমে শো-কজ় করা হয়েছিল। কিন্তু তার জবাব না দেওয়ায় এ বার থানায় তলব করা হয়।
সম্প্রতি লালগোলা থানার নলডহরি এলাকায় হুমায়ুনের বেয়াই শরিফুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী এবং মেয়ে-জামাইয়ের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের টাকায় বেআইনি স্থাবর এবং অস্থাবর সম্পত্তি করার অভিযোগ আনা হয়েছে পুলিশের তরফে। পুলিশ হুমায়ুনের মেয়ের শ্বশুরবাড়ির প্রায় ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ টাকার বেশি সম্পত্তি ‘ফ্রিজ’ করে রেখেছে।
এই অবস্থায় নতুন করে স্ত্রীকে নোটিস পাঠানো প্রসঙ্গে AJUP সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর জানান, শক্তিপুর থানার মানিক্যহার গ্রামে ওই বাড়িতে তিনি প্রায় ১৭-১৮ বছর ধরে বাস করছেন। ওই বাড়িটি তাঁর স্ত্রীর নামে ঠিকই। তবে ২০০৩ সালে স্থানীয় এক ঠাকুর পরিবারের কাছ থেকে তিনি ওই জায়গাটি কিনেছিলেন। পরে ২০০৫ সালে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করেন, ২০০৭ সাল থেকে সপরিবার থাকেন।
যদিও মীরাকে ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দপ্তর যে নোটিস পাঠিয়েছে, সেখানে দাবি করা হয়েছে, মানিক্যহার মৌজায় জেএল নম্বর ৯২, প্লট নম্বর ৪৪০৪-এ প্রায় ০.২ একর জমির চরিত্র তাঁরা বেআইনি ভাবে পরিবর্তন করেছেন এবং এই মর্মে একটি গণস্বাক্ষর করা অভিযোগপত্র জমা পড়েছে। বেআইনি ভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করার ব্যাখ্যা সাত দিনের মধ্যে দিতে হবে। যথাযথ উত্তর না পেলে কেন তাঁর বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গ ভূমি সংস্কার আইন, ১৯৫৫ (WBLR Act, 1955) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
হুমায়ুনের বক্তব্য, ‘শুধু আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে হবে না। বাকি যাঁরা বেআইনি ভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে বাড়ি তৈরি করেছেন বা অন্য স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করেছেন তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। তৃণমূল ছেড়েছি বলে এ সব করা হচ্ছে।’