• সঙ্কট বাড়ছে রান্নার গ্যাসের, বাড়ির বয়স্কদের চিন্তা, ‘এখন কি ইন্ডাকশনে রান্না শিখতে হবে?’
    এই সময় | ১১ মার্চ ২০২৬
  • একে তো রান্নার গ্যাসের (LPG Gas) দাম বেড়েছে। তার উপরে সিলিন্ডার বুক করলে কবে আসবে, তার কোনও ঠিক নেই। ইরানের সংঘর্ষ পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারে ঘাটতি। সিলিন্ডার সরবরাহে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য লাগাম টেনেছে তেল সংস্থাগুলি। এই আবহে জেলায় জেলায় ভোগান্তির ছবি। হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে বাড়ির হেঁশেল, সর্বত্রই এক অবস্থা।

    সিলিন্ডার বুক করতে না পেরে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে লম্বা লাইন গ্রাহকদের। সোনারপুর, বারুইপুর-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার সকাল থেকেই গ্যাসের দোকানের সামনে এই ছবি ধরা পড়ে। সকাল থেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্রাহকরা।

    অনেকেরই অভিযোগ, অনলাইনে গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং করা যাচ্ছে না। আবার অনেকের KYC করা না থাকায় তাঁরাও বাধ্য হয়ে গ্যাসের দোকানে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন। এমন অভিযোগও উঠছে, যে নম্বরে ফোন করে এতদিন গ্যাস বুক করতেন, আচমকাই সেই নম্বরে কল করলে, ‘সুইচড অফ’ বলছে।

    গ্রাহকদের অভিযোগ, বার বার গ্যাস সেন্টারে এসেও সমস্যার কোনও সমাধান হচ্ছে না। হঠাৎ করেই বুকিংয়ের সংখ্যা অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। আগে যেখানে একটি সেন্টারে দিনে প্রায় ৪০০টি বুকিং হতো, এখন সেই সংখ্যা বেড়ে হাজারেরও বেশি হয়ে গিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

    যদিও ফোন করে, কোম্পানির অ্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে গ্যাস বুকিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই সেই পরিষেবা ঠিকমতো কাজ করছে না বলে অভিযোগ।

    একই ছবি মালদাতেও। বাড়ি বসে সিলিন্ডার বুক করতে না পেরে বাড়ছে উদ্বেগ। আতঙ্কে ডিস্ট্রিবিউটরের দোকানে এসে লাইন দিচ্ছেন গ্রাহকরা। অন্তত একটা গ্যাসও স্টক করে যদি রাখা যায়। যা গ্যাস মজুত রয়েছে তাতে আগামী দু’দিন চলতে পারে। তার পর পরিস্থিতি বুঝে ঝাঁপ বন্ধ হতে পারে একাধিক হোটেল, রেস্তোরাঁর। এর প্রভাব পর্যটন শিল্পেও পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ জেলার হোটেল ব্যবসায়ী সংগঠনগুলির।

    বহু হোটেল, রেস্তোরাঁয় গ্যাসের বদলে কয়লায় রান্না শুরু হয়েছে। বড় হোটেলগুলি এখনও স্টকে থাকা সিলিন্ডারে রান্না করলেও মেনুতে কাটছাঁট করছে। বিশেষ করে গ্যাসে যে সব পদ রান্না হয়, সেগুলি কমানো হচ্ছে। বদলে তন্দুর আইটেম বাড়াচ্ছে। অন্য দিকে চাহিদা বাড়ছে ইন্ডাকশনের। গ্যাস না পেলে অন্তত ইন্ডাকশনে কিছু রান্না তো করা যাবে।

    তবে বাড়ির বয়স্ক লোকজন আবার এ সব শুনে চিন্তায়। যাঁরা এক সময়ে উনুনে রান্না করেছেন, সে সব ভুলে এখন গ্যাসে রান্না করছেন। এখন আবার যদি ইন্ডাকশনে রান্না করা শিখতে হয়, তা হলে তো মুশকিল— বলছিলেন ওল্ড মালদার বছর সত্তরের মিনুরানি দেবী। এ চিন্তা তাঁর একার নয়, অনেকেরই।

    যে সমস্ত বয়স্করা বাড়িতে একাই থাকেন, নিজেরাই কোনও মতে ডাল-ভাত ফুটিয়ে খান, তাঁদের এখন চিন্তা, নতুন করে আবার ঝাপসা চোখে টেম্পারেচার সেট করে ডাল, ভাত রেঁধে খেতে হবে নাকি?

    এই রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, অভাব-পরিস্থিতি নিয়ে কেন্দ্রকে তোপ দেগেছেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। বুধবার সাংবাদিক বৈঠকে শশী পাঁজা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গ্যাসের দাম বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে একটা বড় উপহার দিয়েছেন। ভারতবর্ষের বাইরে, পৃথিবীতে যুদ্ধ হচ্ছে, আপনি তো গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছেন। আপনি রান্নাঘরে যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছেন। ২০১৪ সালের পর থেকে লাগামহীন ভাবে গ্যাসের দাম বেড়েছে। কেন কোনও দূরদর্শিতা নেই? কেন পরিস্থিতি আগাম আঁচ করে ব্যবস্থা নেন না?’

  • Link to this news (এই সময়)