আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাড়ি বন্ধ রেখে বেরোনোর উপায় নেই। ফের উত্তরপাড়ায় চুরি! পরপর চুরির ঘটনায় অতিষ্ঠ শহরবাসী। দু'দিন আগেই ১২ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। এবার উত্তরপাড়া পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশ সরণী এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটল। এরপরই প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এলাকার মানুষের।
ভদ্রকালী কো অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা অভিষেক রায় গতকাল তিন ঘণ্টার জন্য বাড়িতে ছিলেন না। তাঁর মা, বাবা বোলপুর গিয়েছেন। স্ত্রী, ছেলে দুর্গাপুরে বিয়েবাড়িতে ছিলেন। ফাঁকা বাড়ি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকে সোনার গয়না ও নগদ প্রায় লক্ষাধিক টাকা নিয়ে যায় চোর। ঘটনায় খুবই আতঙ্কে আছেন অভিষেক।
হাউসিংয়ের সম্পাদক প্রণব চক্রবর্তী বলেন, 'পুলিশের সোর্স বলে আর কিছু নেই। সব ভোঁতা হয়ে গেছে।'স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ বাড়ি ফাঁকা থাকলেই চুরির ঘটনা ঘটছে। সেটা কয়েক ঘণ্টার জন্য হলেও। এই খবর জানছে কী করে চোর? পুলিশের থেকে চোরের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী কিনা তা নিয়েও সংশয়ে বাসিন্দারা।
গতবছরের শেষে হুগলিতে আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছিল। প্রাক্তন স্কুল শিক্ষিকার মুখ বেঁধে ডাকাতি। গয়না লুটপাট কাণ্ডে হুগলির চন্দননগরের মানকুন্ডু আশ্রমপাড়ার চাঞ্চল্য ছড়ায়। এখনও অধরা দুষ্কৃতী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যায় রিষড়া বিদ্যাপীঠ গার্লস হাই স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা বনানী ভট্টাচার্য(৭৫) বাড়িতে একাই ছিলেন। তাঁর পরিচারিকা সুলেখা গাইন অন্য বাড়িতে কাজে গিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, দুই দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢোকে।শিক্ষিকার মুখ চেপে ধরে। সেলোটেপ দিয়ে মুখ বেঁধে দেয়। প্রাক্তন শিক্ষিকাকে মারধর করে। গলা টিপে মারতে গেলে শিক্ষিকা তাদের বলেন, 'সব নিয়ে নাও প্রাণে মেরো না।'
এরপরই হাতের চুরি, গলার হার ছিনিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। আহত বৃদ্ধাকে চন্দননগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে ছেড়ে দেয় হাসপাতাল। গতকালের ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কিত প্রাক্তন শিক্ষিকা।
আজ মঙ্গলবার তিনি বলেন, 'আমাকে প্রাণে মেরেই ফেলত। গলা টিপে ধরেছিল। ওদের মুখ ঢাকা ছিল। আমি ওদের চিনতেও পারিনি। বললাম, তোমাদের চিনি না পুলিশ এলে বলব কী। তাই আমাকে ছেড়ে দিয়েছিল।'
পাশের বাড়িতেই ভাড়া থাকেন শিক্ষিকার বোন জলি চট্টোপাধ্যায়। তিনি নিত্যদিন দিদিকে দেখতে এলেও, গতকাল তিনি আসেননি। তিনি বলেন, '২০১৯ সালে জামাইবাবু মারা যাওয়ার পর থেকে ওই পরিচারিকা এই বাড়িতেই থাকতেন। পরিচারিকা দিদির বাড়িতেই থাকেন পরিবার নিয়ে। গতকাল সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই ঘটনাটি ঘটে। আমি খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আসি।'
পরিচারিকা সুলেখা গাইন বলেন, 'আমার যখন দশ বছর বয়স, তখন থেকেই মামির কাছে আছি। তারপর আমার বিয়ে হয়। আগে অন্য জায়গায় ভাড়ায় থাকতাম। কয়েক বছর ধরে মামীর বাড়িতেই থাকি। আমি পাশের বাড়িতে কাজে গিয়েছিলাম তখনই এই ঘটনা ঘটে। আগে কোনও দিন এমন হয়নি। মামির বোন আসবে বলে, দরজা খোলা ছিল। চিৎকার শুনে আমি পাশের বাড়ি থেকে চলে আসি।মামীকে এই অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। বাড়ির অন্য কোনও জিনিসে হাত দেয়নি। শুধু মামির গয়না নিয়ে গেছে।'
শিক্ষিকার প্রতিবেশী মেরী রায় বলেন, 'আমি খবর পেয়ে ছুটে এসে দেখি দিদির মুখ বাধা সেলোটেপ দিয়ে। মুখ দিয়ে রক্ত বেরোচ্ছে। এখন সবাই আতঙ্কে আছে।'চন্দননগর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।চন্দননগর পুলিশের এক আধিকারিক জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দেখা হচ্ছে সিসিটিভি ফুটেজ। এর আগে বিদ্যা লঙ্কার এলাকায় চুরির ঘটনা ঘটেছিল পাঁচ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।শিক্ষিকার বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় দুষ্কৃতীরা এখনও অধরা।