• 'ভাণ্ডারে কত গ্যাস মজুত আছে জানাক কেন্দ্র', LPG ইস্যুতে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ফুঁসছেন মমতা; ডাকলেন জরুরি বৈঠক
    আজ তক | ১১ মার্চ ২০২৬
  • মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আঁচ সরাসরি পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় LPG সরবারহ থমকে। ফলে দেশজুড়ে সঙ্কট তৈরি হয়েছে গ্যাসের। কেন্দ্রীয় সরকার যদিও তা মানতে নারাজ। তবে দেশের প্রায় প্রত্যেক ছোট-বড় শহরেই গ্যাস সরবরাহ থমকে যাওয়ায় প্রভাব পড়েছে রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ থেকে শুরু করে গণপরিবহণে। এই নিয়ে এবার মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতির জন্য তিনি সরাসরি দায়ী করলেন কেন্দ্র সরকারকে। পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার নবান্নে জরুরি বৈঠক ডাকলেন। একইসঙ্গে সোমবার শহরে এই নিয়ে মিছিলও করবেন বলেও জানালেন। 

    এবিপি আনন্দ এবং নিউজ ১৮ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশ্ন, কেন্দ্রের কাছে কত গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে? মজুত গ্যাসের পরিমাণ না দেখে কেন ২৫ দিনের বুকিংয়ের সময়সীমা ঘোষণা করা হল?

    কালোবাজারি প্রসঙ্গে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'আমি সাহায্য করতে চাই। আর্থিক সঙ্কট রয়েছে, তা সত্ত্বেও ভর্তুকী দিতে চাই। কিন্তু গ্যাসের সাপ্লাইটা তো আমাদের হাতে নেই। সরকার যদি বলে দেয় ২৫ দিন আগে গ্যাস বুকিং করতে হবে তাহলে যারা সুবিধেবাদী তারা তো সুযোগ নেবেই। তাতে সাধারণ মানুষের সমস্যা বাড়বেই। কালোবাজারি হয়েছে আমি এখনও বলছি না। তবে সরকার এটা হতে দিল কেন?' 

    ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, 'গ্যাসের মজুত ভাণ্ডার নেই কেন? গ্যাসের বিজ্ঞাপনে মোদীর ছবি দিয়ে প্রচার করছো, আমেরিকার মাধ্যমে রাশিয়ায় যাচ্ছো তেল কিনতে, তাহলে সাপ্লাই নেই কেন? গ্যাস মানে ঘরকন্যা, এতে তো পরিবহণও চলে। কেন প্ল্যানিং না করে ঘোষণা করে দেওয়া হল, ২৫ দিনের আগে পাওয়া যাবে না। হঠাৎ করে ঘোষণা না করে মানুষকে বলা উচিত ছিল। সরকার যদি নিজে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়। এখন একমা জারি করে মানুষের সমস্যার সমাধান হবে কী?' 

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, কোভিড অতিমারী পরিস্থিতির মতো তিনি এবারও মানুষের পাশে দাঁড়াবেন। তিনি হলে কেন্দ্রের মতো ভুল সিদ্ধান্ত না নিয়ে প্ল্যানিং করে ঘোষণা করতেন। যদিও মমতা বলেন, 'কাউকে দোষারোপ করছি না। কিন্তু যখন জানো যুদ্ধ চলছে, তেলের জন্য আমেরিকাকে গিয়ে বলছো, তখন দেখতে হবে তো কত মজুত গ্যাসের ভাণ্ডার রয়েছে। মোদীজির ছবিতে আমার আপত্তি নেই কিন্তু গ্যাসের ভাণ্ডার লক্ষ্য না রেখে ঘোষণা করা হল কেন?'

    রেস্তোরাঁ, মিড ডে মিল, হাসপাতাল, পরিবহণকে জরুরি পণ্যের মধ্যে রেখে আলাদা প্ল্যানিং দরকার ছিল বলেই মনে করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার এই মর্মে তিনি একটি বৈঠকও করবেন বলে জানিয়েছেন। 

    উল্লেখ্য, কলকাতায় অসংখ্য হোটেল-রেস্তোরাঁ ঝাঁপ বন্ধ করার পথে। সেখানে বড়জোর ২-৩ দিনের গ্যাসের স্টক রয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোল পাম্পগুলিতে দেখা যাচ্ছে LPG অটোর লম্বা লাইন। হাসপাতাল, স্কুল-কলেজের ক্যান্টিন, মিড ডে মিল এমনকী ট্রেনের খাবারেও এই গ্যাস সঙ্কটের তীব্র প্রভাব পড়েছে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। 

    SIR প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, 'যুদ্ধ তো অনেকদিন হল লেগেছে। ওরা কথায় কথায় ধমকায়, SIR করে ভোটার লিস্টে নাম কাটতে পারে আর রিজার্ভ ভাণ্ডার কতটা বলতে পারছে না? বিকল্প কোনও প্ল্যান নেই কেন?'

    মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অবিলম্বে কেন্দ্রকে প্রয়োজনে সংসদে বিবৃতি দিয়ে জানাতে হবে এই মুহূর্তে গ্যাসের ভাণ্ডার কত। সেই স্টক বুঝে সরকারকে প্রত্যেক রাজ্যের মধ্যে গ্যাস সমবন্টন করে দিতে হবে। সবার আগে সাপ্লাই চেন ওপেন করতে হবে। কারণ এই পরিস্থিতিতে যদি কেউ কালোবাজারি করে তার জন্য দায়ী কেন্দ্র সরকার।'

     
  • Link to this news (আজ তক)