• প্রথমে নাম বাদ, পরে ফর্ম বাতিল, হাল ছাড়েননি প্রাক্তন সেনাকর্মী, অবশেষে ‘যুদ্ধ-জয়’ শশীকান্তর
    এই সময় | ১১ মার্চ ২০২৬
  • একবার নাম বাদ, দ্বিতীয় বার আবেদন বাতিল (Final Electoral Roll)। তবু হাল ছাড়েননি চুঁচুড়া কাপাসডাঙার শশীকান্ত হালদার। প্রাক্তন সেনাকর্মী। জেদ তাঁর বরাবরই বেশি। ৮৫ বছর বয়সি শশীকান্ত প্রথম থেকেই বলছেন, সমস্ত নথি আছে, তার পরেও কেন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়বে? অবশেষে নাম উঠেছে তাঁর। এ খবরে শশীকান্ত জানান, যত দিন বাঁচবেন, ভোট দিতে চান।

    ভারতীয় সেনার মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে চাকরি করেছেন। ১৯৯১ সালে অবসর নেন চুঁচুড়া পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাপাসডাঙা লিচুতলার বাসিন্দা শশীকান্ত। রাজীব গান্ধীর শান্তিসেনার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে শ্রীলঙ্কায় এলটিটিই–র সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন। দেশের নানা জায়গায় পোস্টিং ছিল তাঁর। কলকাতার ফোর্ট উইলিয়ামেও ছিলেন। আগ্রায় থাকাকালীন অবসর নেন। ২০২৫ সালে এসে দেখেন ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ।

    এ দিকে ২০০২–এর তালিকায় নাম আছে। ‘SIR’ শুরু হলে BLO যখন তাঁর বাড়িতে ফর্ম দিতে আসেন, স্ত্রী-সহ পরিবারের সকলের ফর্ম দিলেও, ডিলিটেড ভোটার হওয়ায় তাঁকে ফর্ম দেননি। নতুন ভোটার হিসেবে নাম তোলার জন্য ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করেন শশীকান্ত। এর পরে মোবাইলে মেসেজ আসে, তাঁর ৬ নম্বর ফর্মের আবেদনও রিজেক্টেটেড!

    শশীকান্তর ছেলে বিনয় হালদার জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়। সংবাদমাধ্যমে সেই খবর আসতেই নড়েচড়ে বসেন নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকরা। এর পরে ফর্ম রিভিউ, নথি পরীক্ষার পরে আপাতত অ্যাপে দেখাচ্ছে, ফর্ম গৃহীত হয়েছে। এ বার নাম উঠল। প্রিন্টিং কার্ড হাতে পাবেন।

    বিনয় জানান, কেন যে বাবার নাম বাদ গেল, সে সদুত্তর তাঁরা আজও পাননি। যে তথ্য আগে দেওয়া হয়েছিল, সেই তথ্য দেখেই নাম তোলা হলো। অনেক লড়াই করে অবশেষে নাম উঠেছে। কিন্তু যাঁরা এত ঘুরতে পারবেন না, এ দিক ও দিক ছুটতে পারবেন না, তাঁদের কী হবে?

  • Link to this news (এই সময়)