• ‘মা, ফিরব কি না জানি না’, যুদ্ধের মাঝে আমিরশাহিতে উদ্ধার অভিযানে পাইলট দীপিকা, তার পরে...
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ায় (War in Middle East) যুদ্ধ চলছে। যখন তখন আছড়ে পড়ছে মিসাইল। বন্ধ অধিকাংশ আকাশ পথ। আটকে পড়েছেন কয়েক হাজার ভারতীয়। তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনতেই ডাক পড়েছিল পাইলট দীপিকা আধানা (Pilot Deepika Adhana)। খবরটা শুনেই মনটা আনন্দে নেচে উঠেছিল। দেশসেবার এই তো সুযোগ। তবে মনের কোণে উঁকি দিচ্ছিল এক চিলতে ভয়ও। মিসাইল, যুদ্ধবিমানের দাপাদাপির মাঝে সবাইকে নিয়ে নিরাপদে ফিরতে পারবেন তো?

    দিনটা ছিল ৬ মার্চ। সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে তাঁর কাছে প্রথম ফোনটা আসে। জানানো হয়, এখনই উদ্ধার অভিযান শুরু করতে হবে। যেতে হবে আমিরশাহির রাস আল খাইমাহে। যুদ্ধের মধ্যে সেখানে আটকে পড়েছেন ১৬৯ জন ভারতীয়। তাঁদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনাই তাঁর দায়িত্ব। সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়ে যান ২৩ বছরের দীপিকা। এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের (Air India Express) বিমানে ওঠার আগে মাকে একটা ফোন করেছিলেন তিনি। শুধু বলেছিলেন, ‘বাই বাই মা। আমিরশাহি যাচ্ছি। আর ফিরব কি না জানি না।’

    ফ্লাইট চালানোর কথা ছিল তাঁর সহকর্মীর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ককপিটে বসেন দীপিকাই। দলে ছিলেন ক্যাপ্টেন জসবিন্দর কৌর, পাইলট দীপিকা আধান এবং চারজন মহিলা ক্রু। NDTV-কে দীপিকা বলেন, ‘ভয় তো ছিলই। যুদ্ধের মধ্যে যাচ্ছি। তবে সরকার নিরাপত্তার সব রকমের আশ্বাস দিয়েছিল আমাদের।’ দুপুর ২টো নাগাদ রাস আল খাইমাহ (Ras Al Khaimah) বিমানবন্দরে অবতরণ করে দীপিকাদের বিমান। চারদিক শুনশান। কেউ কোথাও নেই। দীপিকার কথায়, ‘এমনটা সাধারণত হয় না। যুদ্ধের জন্যই হয়তো এমন নীরবতা।’

    এক ঘণ্টা পরে ১৬৯ জন ভারতীয় বিমানে ওঠেন। বিকেল সাড়ে ৩টে নাগাদ আমিরশাহি থেকে রওনা দেয় দীপিকাদের বিমান। কিন্তু ওড়ার পড়েই বিপত্তি। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তবে খুব দ্রুত আবার স্বাভাবিকও হয়ে যায় সব কিছু। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ দিল্লির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে বিমান। নিরাপদে দেশে ফেরেন ১৬৯ জন যাত্রী। মেয়ের সাফল্যে খুশি মা বাবলি আধানা বললেন, ‘মেয়ের ওই কথাটা এখনও কানে বাজছে। তবে এত মানুষকে ফিরিয়ে আনল, আমি খুব খুশি।’

    দীপিকার দাদু অমৃত সিং আধানা স্বপ্ন দেখতেন, নাতনি একদিন পাইলট হবে। দীপিকা সেই স্বপ্ন সত্যি করেছেন। ২০২১ সালে কর্মাসিয়াল পাইলট লাইসেন্স পান তিনি। Airbus A320 যাত্রীবাহী বিমান চালানোর বিশেষ প্রশিক্ষণও নেন। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে যোগ দেন এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে। এখন তাঁর ‘হাতে’ ভরসা পান হাজার হাজার যাত্রী।

  • Link to this news (এই সময়)