• পরাস্ত বিরোধীরা, স্পিকার ওম বিড়লাই, রাহুলকে ‘চোখ মারা, জড়িয়ে ধরা’ নিয়ে কটাক্ষ অমিত শাহের
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • শুরু থেকেই NDA শিবিরের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। বিরোধীদের জেতার কোনও সুযোগ ছিল না। শেষ পর্যন্ত বুধবার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার (Speaker Om Birla) বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাব (Motion for Removal) খারিজ হয়ে গেল। তবে তার আগে কেন্দ্রীয় সরকারকে (Central Government) একযোগে আক্রমণ শানাল কংগ্রেস, তৃণমূল। পাল্টা ‘চোখ মারা, জড়িয়ে ধরা’-র প্রসঙ্গ তুলে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) কটাক্ষ করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও (Amit Shah)। সব মিলিয়ে চূড়ান্ত হট্টগোলের সাক্ষী থাকল লোকসভা।

    গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে বাজেট অধিবেশনের দ্বিতীয় পর্ব। তার আগেই অবশ্য স্পিকারকে সরানোর দাবিতে নোটিস পেশ করেছিল বিরোধী শিবির। মঙ্গলবার থেকে তা নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। ওম বিড়লার বদলে এখন লোকসভার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন বিজেপি সাংসদ জগদম্বিকা পাল। এ দিন সরকার ও বিরোধী পক্ষের আলোচনা শেষে ধ্বনিভোটের আয়োজন করেন তিনি। তাতেই পরাস্ত হন বিরোধীরা। ফলে লোকসভার স্পিকার পদে ওম বিড়লাই বহাল থাকছেন।

    তবে ভোটাভুটির আগে গত দু’দিন ধরে তীব্র বিতর্ক হয়েছে লোকসভায়। রাহুল নিজেও অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে বক্তব্য পেশ করেন। স্পিকারের বিরুদ্ধে সরাসরি পক্ষপাক্ষিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি। রাহুল বলেন, ‘যখনই বলতে উঠি, থামিয়ে দেওয়া হয়। নরবণের বই নিয়ে বলতে দেওয়া হয়নি, এপস্টিন ফাইল নিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আসলে প্রধানমন্ত্রী আপস করেছেন।’

    পাল্টা রাহুলকে আক্রমণে নামেন অমিত শাহ। তাঁর মতে, স্পিকারের দিকে আঙুল তোলা মানে গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করা। সংসদে বিরোধী দলনেতার ‘চোখ মারার’ প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। অমিত শাহ বলেন, ‘আপনাদের সুপ্রিম লিডার নিজেই সংসদে এসে চোখ মারেন, প্রধানমন্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেন। এটা কী ধরনের আচরণ?’ এর পরেই হট্টগোল শুরু হয়ে যায়। ওয়েলে নেমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি জানাতে থাকেন বিরোধী সাংসদরা। অমিত শাহ ক্ষমা চাননি। তবে তিনি বলেন, ‘আমার মন্তব্য যদি অসংসদীয় হয়, তা হলে রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হোক।’

    লোকসভায় NDA-এর সাংসদ সংখ্যা ২৯৩ জন। এর মধ্যে BJP-র ২৪০ জন, নীতীশ কুমারের JDU-র ১৬ জন, তেলেগু দেশম পার্টির ১২ জন এবং অন্য শরিকের সাংসদরা রয়েছেন। অন্য দিকে বিরোধী শিবিরের মোট সাংসদ ২৩৮ জন। এর মধ্যে কংগ্রেসের ৯৯ জন এবং বাকি তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, DMK-সহ অন্য দলের। ফলে শুরু থেকেই পিছিয়ে ছিলেন বিরোধীরা। এ দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে ধ্বনিভোটের ফলাফল প্রকাশ হয়নি। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা যে সরকার পক্ষের ছিল সেটা স্পষ্ট। উল্লেখ্য, এর আগেও লোকসভার প্রাক্তন স্পিকার জিভি মাভালঙ্কার(১৯৫৪), হুকুম সিং (১৯৬৬) এবং বলরাম জাখর (১৯৮৭)-এর বিরুদ্ধে ‘মোশন ফর রিমুভাল’ প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়েছিল। কিন্তু তিন বারই প্রস্তাব খারিজ হয়ে যায়।

  • Link to this news (এই সময়)