জ্বালানি সঙ্কটের প্রভাব এ বার ধর্মীয় স্থান, মন্দিরগুলিতেও। একাধিক মন্দির, প্রতিষ্ঠান সাধারণের জন্য প্রসাদের পরিমাণে রাশ টানা হচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। বাগবাজার মায়ের বাড়িতে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত প্রসাদ বিতরণ। পূর্ব মেদিনীপুরের বর্গভীমা মন্দির কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, আগামী ২১ শে মার্চের পর থেকে সাধারণ ভক্তদের জন্য আর মিলবে না মায়ের ভোগ। দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রসাদের পরিমাণ কমানো হচ্ছে। সকলেই জানাচ্ছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার পুরোনো ছন্দে ফিরবেন তাঁরা।
সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরছে একটি পোস্টার। তাতে লেখা, ‘গ্যাসের ঘাটতিজনিত সমস্যার কারণে ৮.৩.২৬ থেকে মায়ের বাড়িতে প্রসাদ বিতরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই আবার প্রসাদ বিতরণ শুরু হবে এবং তা যথা সময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
বাগবাজার মায়ের বাড়িতে নিয়মিত বহু মানুষ আসেন, লম্বা লাইন দিয়ে প্রসাদ নেন। বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত খবরের সত্যতা যাচাই করে 'এই সময় অনলাইন'। জানা যায়, এ খবর সত্য। যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে সত্যিই কিছু করার নেই। এ সঙ্কটে গোটা দেশ। রামকৃষ্ণ মঠ (বলরাম মন্দির)ও সিদ্ধান্ত নিয়েছে, গ্যাসের ঘাটতির কারণে, আপাতত কেউ যেন দুপুরের প্রসাদের আবেদন না করেন। সাময়িক এই পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশও করেছে তারা।
গ্যাসের সঙ্কটের কারণে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে প্রসাদের পরিমাণও কমানো হয়েছে। দিঘা জগন্নাথ ধাম ট্রাস্টি বোর্ডের তরফে রাধারমণ দাস বলেন, ‘আমাদের কিছু গ্যাস মজুত ছিল। সেই গ্যাস ও কাঠ দিয়ে প্রভুর জন্য ভোগ হয়েছে। অল্প মানুষের জন্য প্রসাদ তৈরি করেছি। আগে যেখানে ১০০০-১২০০ জনের প্রসাদ তৈরি করা হতো। এখন সেখানে ২০০-২৫০ জনের প্রসাদ তৈরি করা হচ্ছে। গ্যাসের জোগান বাড়লে, আবার স্বাভাবিক করা হবে।’
পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকের বর্গভীমা মন্দির সতীর ৫১ পীঠের এক পীঠ। সেখানে নিয়মিত ভক্তরা আসেন, নিয়মিত ভোগ রান্না হয়। প্রসাদ পান ভক্তরা। বহু ভক্ত চাল, ডাল, সবজি ও অন্যান্য সামগ্রী দেন। তাতেই রান্না হয়। বহু মানুষ আগে থেকে বুক করে রাখেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাঁদের যা গ্যাসের স্টক রয়েছে, তাতে ২০ তারিখ অবধি চালিয়ে নেওয়া যাবে। এর পরে সমস্যা হবে। তাই সেই সময়ে মায়ের নিত্যপুজোর ভোগ ছাড়া, সাধারণের প্রসাদে কাটছাঁট করা হবে।
বর্গভীমা মন্দির কমিটির তরফে শিবাজী অধিকারী জানান, আগে কাঠের জালে রান্না হতো। এখন পুরোটাই গ্যাস নির্ভর। ফলে তার পর্যাপ্ত জোগান না থাকলে সমস্যা। প্রতিদিন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ মানুষ কুপন কেটে প্রসাদ নেন। নিত্যপুজোর ভোগ ছাড়া তাই এখন আর তাঁরা কোনও ভক্তের দেওয়া ভোগের উপকরণ নিচ্ছেন না। পরিবর্তিত পরিস্থিতির উপরে নির্ভর করবে সবটা।