আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ বহু বছর পর ফের 'চৌধুরী ভিলা'য় ফিরলেন একদা বহরমপুরের 'রবিনহুড' তথা পাঁচবারের কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। দীর্ঘ বহু বছর পর নিজের 'পয়া' 'চৌধুরী ভিলা'য় বুধবার পা রাখতেই বহরমপুর জুড়ে নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে, তাহলে কি নিজের হারানো রাজনৈতিক সাম্রাজ্য ফিরে পেতে অধীর চৌধুরী ফের একবার পা রাখলেন নিজের পুরনো বাড়িতে? বহরমপুরের গোরাবাজার এলাকায় অবস্থিত চৌধুরী ভিলায় থাকাকালীন তিনি একাধিকবার কংগ্রেসের সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। চৌধুরী ভিলা প্রাক্তন এই কংগ্রেস সাংসদদের নিজের ব্যক্তিগত জীবনেরও অনেক সুখ দুঃখের সঙ্গী।
একসময় চৌধুরী ভিলার সামনে মুর্শিদাবাদ জেলা কংগ্রেসের তাবড় নেতাদের লাইন লেগে থাকত। মুর্শিদাবাদ জেলায় যখন কংগ্রেসের 'সুদিন' ছিল তখন সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত এই বাড়িতে অধীরের সঙ্গে তাঁর অফিসে দেখা করার জন্য বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে বসে থাকতেন। বাড়ির একতলার একটি ছোট ঘরে অধীর চৌধুরী দলের কোর কমিটি'র লোকদের নিয়ে বৈঠক করতেন। আর জেলার সাংবাদিকরা অধীরবাবুর সঙ্গে দেখা করতে গেলে চৌধুরী বাড়ির একতলায় অবস্থিত একটি বড় ঘরে গিয়ে বসতেন।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কারণে অধীরবাবু আর চৌধুরী ভিলায় থাকেননি। একটা সময় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে পড়েছিল সদৃশ্য এই বাড়ি। বুধবার সকালে হঠাৎই সকলকে চমকে দিয়ে জেলা কংগ্রেসের তরফ থেকে জানানো হয় অধীর চৌধুরী সাংবাদিকদের সঙ্গে চৌধুরী ভিলায় মিলিত হবেন।
প্রসঙ্গত, বহরমপুর শহরের অধীর চৌধুরী গেলে, তিনি বর্তমানে কাশিমবাজার এলাকায় অবস্থিত তাঁর অন্য একটি বাড়িতেই বেশিরভাগ সময় থাকেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎকার হয় বহরমপুরে জেলা কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে।
হঠাৎ করেই কংগ্রেস কার্যালয়ের পরিবর্তে চৌধুরী ভিলায় সাংবাদিক সম্মেলন হাওয়ায় সাংবাদিক মহলেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে তাহলে কি নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার পুনরুদ্ধারের জন্য পয়া বাড়িতে ফিরে আসতে চলেছেন অধীর চৌধুরী। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজয় অধীর চৌধুরীর রাজনৈতিক জীবনে এটি বড় ধাক্কা। এরপর কিছুদিন তিনি একটু নীরব ছিলেন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে মুর্শিদাবাদ জেলায় কংগ্রেসের সংগঠন ফের একবার সক্রিয় করার কাজে হাত লাগিয়েছেন এআইসিসি-র এই অন্যতম সদস্য। প্রায় রোজই নিয়ম করে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন অধীর।
বুধবার সাংবাদিক সম্মেলনের জন্য নিজের টয়োটা গাড়ি করে 'চৌধুরী ভিলা'য় এসে উপস্থিত হন অধীর। এই দৃশ্য দেখার পর অনেকেই মনে করছেন আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলাবাসীর জন্য বড় কোনও চমক অপেক্ষা করছে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে নিজের 'পয়া' চৌধুরী ভিলায় থেকে ফের একবার অধীর চৌধুরী জেলার কোনও একটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়াই করবেন।
১৯৯৯ সালে প্রথমবার লোকসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার আগে অধীর চৌধুরী ১৯৯১ এবং ১৯৯৬ সালে মুর্শিদাবাদের নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে অধীর চৌধুরী জয়ী হন এবং রাজ্য বিধানসভায় প্রবেশ করেন।
১৯৯৬-এর পর ২০২৬ সালে অধীর চৌধুরী ফের একবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না তা ভবিষ্যতই বলবে। তবে 'পয়া' 'চৌধুরী ভিলা' ফের নতুন করে ব্যবহার করার সঙ্গে ভোটে লড়ার কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি না তা নিয়ে খোলসা করে কিছু বলতে রাজি হননি অধীর। এই বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,"মাঝে মাঝে বাড়িটি ব্যবহার করা দরকার বলে অনেকেই বলছিলেন। তাই এই বাড়িতে এসেছি। এরপর দলীয় অফিসে যাব। ওই সব 'লাকি'-'আনলাকি' নিয়ে আমি চলি না।"
তবে নিজের পয়া বাড়িতে ফিরে আসার পর অধীর চৌধুরীর ভাগ্যে কোনও পরিবর্তন ঘটে কিনা তা সময়ই বলবে।