• গ্যাসের আকালে শহরে কত বাড়ল ইন্ডাকশন কুকারের বিক্রি?
    আজকাল | ১২ মার্চ ২০২৬
  • গোপাল সাহা: কথায় বলে— “কারও পৌষ মাস, তো কারও সর্বনাশ।” বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই কথাই যেন হুবহু সত্যি হয়ে উঠেছে। রান্নার গ্যাসের ঘাটতি বাড়তেই বিকল্প হিসেবে বাজারে হঠাৎ বেড়ে গেছে ইন্ডাকশন কুকার-সহ বিভিন্ন প্রকার বিদ্যুৎচালিত রান্না করার সরঞ্জামের চাহিদা। ফলে যেখানে সাধারণ মানুষ পড়েছেন বিপাকে, সেখানে বিক্রেতাদের ব্যবসায় যেন নতুন করে জোয়ার এসেছে।

    আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে জ্বালানি সরবরাহে। বিশেষ করে ইরানের হরমুজ প্রণালী দিয়ে বহু পণ্যবাহী জাহাজ আটকে পড়ায় জ্বালানি তেল ও গ্যাসের আমদানি কমে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এর ফলে দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বহু জাহাজ সেখানে আটকে থাকার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে গৃহস্থের রান্নাঘরে।এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে ঝুঁকছেন বিদ্যুৎচালিত রান্নার যন্ত্রের দিকে। বিশেষ করে ইন্ডাকশন কুকারের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।

    কলকাতার চাঁদনী মার্কেটের এক হোম অ্যাপ্লায়েন্স বিক্রেতা বাদশা বলেন, “গ্যাসের সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকেই ইন্ডাকশন কুকারের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে। প্রচুর গ্রাহক এখন ইন্ডাকশন কিনতে আসছেন। আপাতত স্টক আছে বলেই দিতে পারছি। তবে এইভাবে চাহিদা বাড়তে থাকলে স্টক দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।”

    তিনি আরও বলেন, “কিছু গ্রাহক আবার এমন ইলেকট্রিক চুলার খোঁজ করছেন যেগুলো গ্যাসের মতো আগুনের ফ্লেম তৈরি করে। এগুলো মূলত চিনা পণ্য এবং এখনও বাজারে খুব বেশি আসেনি। তবে চাহিদা বাড়লে এগুলোরও ঘাটতি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি দাম ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। কোম্পানি যদি দাম বাড়ায়, তাহলে আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হবে।”

    অন্যদিকে ক্রেতাদের মুখে স্পষ্ট উদ্বেগের ছাপ। এক ক্রেতা বলেন, “আমরা এখন সাঁড়াশি চাপে পড়েছি। একদিকে গ্যাসের আকাল ও দাম বৃদ্ধি, অন্যদিকে ইন্ডাকশন বা ইলেকট্রিক চুলার চাহিদা বাড়ায় সেগুলোর দামও বাড়তে পারে। তাহলে রান্না করব কীভাবে? টাকা থাকলেও যদি জ্বালানি না থাকে, তাহলে তো সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।”

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে জ্বালানি বাজারে এই চাপ আরও বাড়তে পারে। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে।

    উল্লেখযোগ্য বিষয় এই পরিস্থিতিতে আপাতত একটাই বাস্তবতা—গ্যাসের আকাল গৃহস্থের যেমন মাথাব্যথা বাড়াচ্ছে, আর তেমনি বিদ্যুৎচালিত রান্নার সরঞ্জামের বাজারে এনে দিচ্ছে নতুন ব্যবসার সুযোগ। তাই স্বাভাবিকভাবেই বলা যায় গৃহস্থের যেমন সর্বনাশ, তেমনই বিক্রেতাদের পৌষ মাস।
  • Link to this news (আজকাল)