• দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ‘সতীত্ব প্রমাণ’ বিতর্ক, ভিডিও দেখিয়ে BJP-র বিরুদ্ধে অভিযোগ TMC-র
    আজ তক | ১২ মার্চ ২০২৬
  • নন্দীগ্রামের BJP নেতা প্রলয় পালের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলল তৃণমূল। বুধবার তাঁর একটি ভিডিও এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করা হয় দলের তরফে। যেখানে ওই নেতাকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ঘরের মহিলারা দিঘায় গিয়েছে উন্নয়নের পাঁচালি শুনতে। কোন হোটেলে তাঁরা গিয়েছেন, জানা নেই। তবে ঘরে ফিরলে যেন তাঁদের গাইনি ডাক্তার দেখানো হয়। অর্থাৎ সতীত্বের প্রমাণ বলছেন প্রলয় পাল। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি bangla.aajtak.in.

    উল্লেখ্য, এই সেই প্রলয় পাল, যাঁর সঙ্গে ২০২১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোনালাপ প্রকাশ্যে চলে এসেছিল। তিনি বরাবরই শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীকে জেতাতে কোনও চেষ্টার কসুর করেননি তিনি। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন কলের রেকর্ডিং ফাঁস করে দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে একবার নন্দীগ্রামে পঞ্চায়েত ভোটের ফলাফল ভাল না হওয়ায় অভিমানে দল ছাড়তে চেয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রচারের আলোয় না থাকা সেই নেতা ২০২১ সালের পর ফের একবার চর্চায় উঠে এলেন। তৃণমূলের পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী এমনকী, খোদ অমিত শাহের সঙ্গেও ছবি দেখা গিয়েছে এই প্রলয় পালের। 

    ভিডিওতে কী রয়েছে? 
    তৃণমূলের পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, BJP নেতা প্রলয় পাল বলছেন, 'যা, যা! তোরা গুজরাট চলে যা, রাজস্থান চলে যা। সারাদিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ইনকাম করে বাড়িতে পাঠা। আর বাড়ির বউটা দেখ দিঘা চলে যাচ্ছে উন্নয়নের পাঁচালির গান গাইতে, দীক্ষা নিতে। কোন হোটেলে দীক্ষা নিচ্ছে, কতক্ষণ দীক্ষা নিচ্ছে জানি না। দেখিস বাড়ি ফিরলে বউটাকে যেন গাইনি দেখাতে না হয়। কারণ প্রার্থীর তো অভাব নেই ওই দলে। বড় ভাই হিসেবে তোদের সাবধান করলাম।'

    তৃণমূলের অভিযোগ
    এক্স পোস্টে লেখা হয়, 'নন্দীগ্রামের এই BJP নেতা এমন এক মন্তব্য করেছেন, যা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। তিনি বলেছেন, যে সব মহিলার স্বামীরা অন্য রাজ্যে কাজ করেন, তাদের সতীত্বের প্রমাণ দেওয়ার জন্য স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত। এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় BJP-র চিন্তাধারায় একজন মহিলা যদি উন্নয়নের পাঁচালি পাঠে অংশ নেন বা জগন্নাথ ধামে যান, তাহলেই তাঁকে সন্তেহের চোখে দেখা হবে।' একজন নারীর চরিত্র BJP-র চোখে সর্বদাই সন্দেহজনক বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। এক্স পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, BJP চাইছে নারীরা যেন সতীত্বের প্রমাণ দিতে অগ্নিপরীক্ষা দেন। এটা তাদের নারীবিদ্বেষী এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিচয়। তৃণমূলের কথায়, 'একদিকে তারা বেটি বাঁচাও বেটি পড়াওয়ের কথা বলে আর অন্যদিকে নারীদের এমন বস্তুতে পরিণত করেছে যেন তাঁদের শরীরকে নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা এবং বিচার করা যায়।' বাংলা এই মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে তীব্রভাবে প্রত্যাখ্যান করবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে তৃণমূল। বাংলার নারীরাই BJP-র পরাজয়ের কারণ হবে বলেও জানিয়েছে ঘাসফুল শিবির। 

     
  • Link to this news (আজ তক)