ইস্তফার পর বঙ্গবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি সিভি আনন্দ বোসের
দৈনিক স্টেটসম্যান | ১২ মার্চ ২০২৬
চিঠির শুরুতেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে ‘ভাই ও বোন’ বলে সম্বোধন করেছেন তিনি। গত কয়েক বছরে রাজ্যের মানুষের কাছ থেকে যে সমর্থন, স্নেহ ও সম্মান পেয়েছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আপনারা যে সমর্থন, স্নেহ ও সম্মান আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
বাংলার প্রতি নিজের আবেগের কথাও স্পষ্ট করে লিখেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ আমার দ্বিতীয় ঘর। এর সঙ্গে আমি অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত থাকব ও থাকতেই চাই।’ বাংলার উন্নতি ও অগ্রগতি কামনা করে তিনি আরও লিখেছেন, এই মাটির মানুষ আগামী দিনে আরও উচ্চতার শিখরে পৌঁছবে বলেই তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস।
চিঠিতে তিনি স্মরণ করেছেন মহাত্মা গান্ধীর একটি উক্তিও। সেই প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘অনেক দশক আগে মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, “আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না। আর বাংলা আমাকে ছেড়ে যেতে দেবে না।” আজ আমি সেই একই অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছি।’
রাজ্যপাল থাকাকালীন সময়ের নানা অভিজ্ঞতার কথাও ভাগ করে নিয়েছেন তিনি। গত তিন বছরে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ পেয়েছেন বলে জানান। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘আমি গ্রামবাসীদের খড়ের ছাউনি দেওয়া ঘরে বসে তাঁদের সঙ্গে আহার করেছি। তরুণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পড়াশোনা করেছি। জ্ঞানী ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি।’
বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির কথাও উল্লেখ করেছেন প্রাক্তন রাজ্যপাল। তাঁর মতে, এই বাংলার মাটিতে যুগে যুগে বহু মনীষীর জন্ম হয়েছে, যাঁরা সমগ্র দেশকে পথ দেখিয়েছেন। সেই ঐতিহ্য ধরে রেখেই ভবিষ্যতে বাংলা আরও এগিয়ে যাবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
চিঠির শেষে তিনি লেখেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—পশ্চিমবঙ্গের আমার ভাই ও বোনেরা আগামী দিনে আরও মহান উচ্চতায় পৌঁছবেন। আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী সেই পথচলায় বিনম্রভাবে অবদান রেখে যাব।’ পাশাপাশি তিনি প্রার্থনা করেছেন, বঙ্গভূমি আগামী দিনে আরও গৌরবের শিখরে পৌঁছাক। মানুষের জীবনে আসুক সমৃদ্ধি, শান্তি ও সুস্বাস্থ্য। শেষবারের মতো তিনি দেবী দুর্গার কাছে বঙ্গবাসীর মঙ্গল কামনা করে লিখেছেন, ‘মা দুর্গা আমার প্রিয় মানুষের সকলকে রক্ষা করুন।’