‘টাইটানিক’ সিনেমাটি নিশ্চয়ই এখনও সকলের মনে রয়েছে। যদি পুরো সিনেমাটি না-ও বা মনে থাকে, অন্তত পক্ষে সেই ছবির একটি দৃশ্য: জাহাজের সামনের অংশ বা বো-তে রেলিং-এ দাঁড়িয়ে দুই হাত ছড়িয়ে দিয়েছে রোজ, আর জ্যাক পিছন থেকে তার কোমর জড়িয়ে ধরে রেখেছে। এটিই সেই সিনেমার সবচেয়ে বিখ্যাত রোমান্টিক মুহূর্ত। মঙ্গলবার আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-র ন্যাশনাল মলে দেখা গিয়েছে এই বিখ্যাত মুহূর্তটির আদলে তৈরি এক ভাস্কর্য।
শুধু রোজ়-এর জায়গায় দেখা যাচ্ছে প্রয়াত শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিন আর জ্যাকের জায়গায় আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। জ্যাক ও রোজ়ের আদলে তাঁদের আলিঙ্গনরত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। বলাই বাহুল্য ভাস্কর্যটিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১২ ফুট লম্বা এই ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্যটিকে তৈরি করেছে ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ নামে অজ্ঞাতপরিচয় এক শিল্পী গোষ্ঠী। সোনালি রঙের এই মূর্তিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য কিং অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’। মূর্তির নীচে থাকা ফলকে ট্রাম্প ও এপস্টিনের অতীত সম্পর্ককে একটি ‘ট্র্যাজিক লাভ স্টোরি’ বা বিয়োগান্তক প্রেমের কাহিনি বলে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে। সেখানে এপস্টিনের কুখ্যাত প্রাইভেট জেটে ট্রাম্পের বিলাসবহুল ভ্রমণ ও গোপন পার্টির বিষয়েও ইঙ্গিত রয়েছে।
এটি ট্রাম্প-এপস্টিন-কে নিয়ে ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’-এর তৈরি তৃতীয় ভাস্কর্য। রয়টার্স জানিয়েছে, এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প এবং এপস্টিনের হাত ধরে থাকা একটি ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য তৈরি করেছিল তারা। নাম দিয়েছিল ‘বেস্ট ফ্রেন্ডস ফরএভার’। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেফ্রি এপস্টিনকে ট্রাম্পের পাঠানো একটি জন্মদিনের বার্তার প্রতিলিপি স্থাপন করেছিল এই ন্যাশনাল মলেই।
এ দিকে ‘দ্য কিং অফ দ্য ওয়ার্ল্ড’ ভাস্কর্যটি নিয়ে চরম ক্ষুব্ধ হোয়াইট হাউস। ইরান যুদ্ধের মধ্যে এই মূর্তি তাদের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। আমেরিকান প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এই ভাস্কর্য স্থাপনকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেছেন। তাঁর অভিযোগ, এর পিছনে ডেমোক্র্যাট দলের হাত আছে। ডেমোক্র্যাট ঘনিষ্ঠ শিল্পীরাই এই ‘বিকৃত মূর্তি’ তৈরি করেছেন।
আমেরিকায় এখন অনেকেই বলছেন, ‘এপস্টিন ফাইলস’ থেকে জনতার নজর ঘোরাতেই ইরানে এই ‘অর্থহীন যুদ্ধ’ শুরু করেছেন ট্রাম্প। ‘সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ কিন্তু বুঝিয়ে দিল, কোনও পরিস্থিতিতেই ট্রাম্প ও এপস্টিনের অতীত সম্পর্ককে তারা জনমানস থেকে ভুলতে দেবে না। ধারাবাহিক ভাবে ব্যঙ্গাত্মক ভাস্কর্য স্থাপন করে বিষয়টিকে তারা জনগমের মধ্যে জিইয়ে রাখবে।