সরকারি হাসপাতালে কর্মরত এক নার্সের অগ্নিদগ্ধ দেহ উদ্ধার হলো বাড়ি থেকে। তাঁর স্বামী অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন হাসপাতালে। বুধবার রাত ৯টা নাগাদ কোচবিহার শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বক্সী বাড়ি মোড় এলাকার ঘটনা। মৃত নার্সের নাম ছন্দা রায় (৩৫)। তিনি কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের নার্স। তাঁর স্বামী রঞ্জিত রায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যে বাড়িতে এই ঘটনা ঘটেছে, সেখানে তাঁরা ভাড়া থাকতেন।
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ছন্দা এ দিন রাত আটটা নাগাদ ডিউটি সেরে বাড়ি ফেরেন। তার কিছুক্ষণ পরেই বাড়ি থেকে চিৎকার-চেঁচামেচির আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা এসে দেখেন অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাড়ির গেটের সামনে ওই মহিলা পড়ে রয়েছেন। সেই সময়ে কিছুটা দূরে একটি টোল প্লাজায় অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় তাঁর স্বামী রঞ্জিত চেঁচিয়ে সাহায্য চাইছিলেন। সেখানকার কর্মীরাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ এবং দমকল আসে এলাকায়।
স্থানীয় কাউন্সিলর মিনতি বরুয়া জানিয়েছেন, কী ভাবে এই ঘটনা ঘটলো তা এখনও অস্পষ্ট। স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজনের দাবি, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রায়শই ঝামেলা হতো। তাঁদের অভিযোগ কোনও দাহ্য তরল দিয়ে রঞ্জিত হয়তো আগুন লাগিয়ে থাকবেন। সেই কারণেই তাঁর গায়েও আগুন লেগেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রথমে খালি গায়ে দৌড়চ্ছিলেন। পরে নিজের গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। পরে মানুষের কাছে সাহায্য চান। জানা গিয়েছে, ওই দম্পতির একমাত্র কন্যা কালিম্পংয়ে বোর্ডিং স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
রুম্পা বর্মা নামে ওই বাড়ির বাসিন্দা জানিয়েছেন, চার বছর ধরে ওই দম্পতি ভাড়া থাকতো। রঞ্জিত গাড়ি চালানোর কাজে প্রায় দিনই বাইরে থাকতেন। বাড়ির মালিক দেবজিৎ বর্মা জানিয়েছেন, ভাড়াবাড়িতে একাই থাকতেন এই মহিলা। তাঁর স্বামী মাঝেমধ্যে বাড়িতে আসতেন। কয়েকদিন ধরে দম্পতির মধ্যে টাকাপয়সা নিয়ে অশান্তি চলছিল।
রুম্পা জানান, এ দিন ডিউটি থেকে ফিরে বাড়ির জন্য রান্না করে এক সহকর্মীর জন্মদিনে যাওয়ার কথা ছিল ছন্দার। জেলা পুলিশ সুপার সন্দীপ কাররা জানিয়েছেন, ঘটনা তদন্ত শুরু করা হয়েছে।