• গ্যাস–সঙ্কট, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভোগের পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়, দিঘা: এত দিন অন্তত হাজার খানেক মানুষ পাত পেড়ে খেতেন দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে (Digha Jagannath Temple)। কিন্তু গ্যাস–সঙ্কটে মন্দির কর্তৃপক্ষ ভোগ রান্নার পরিমাণ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

    মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ও মন্দির ট্রাস্টি কমিটির সদস্য রাধারমণ দাস বলেন, ‘মন্দিরে প্রতিদিন ভগবানের ভোগ রান্নার পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে বিতরণের জন্যে ভোগ রান্না করা হয়। মন্দিরে বসে ভোগ খাওয়ার ব্যবস্থা চালু করার পরে ভক্তদের মধ্যে ভোগের চাহিদা বেড়েছে। দৈনিক হাজার ভক্তের জন্যে ভোগ প্রসাদ রান্না করা হয়। তবে ভগবানের ভোগ রান্নায় গ্যাসের পাশাপাশি কাঠের ব্যবহার করা হয়। দিনে ৮-৯টি গ্যাস সিলিন্ডারের প্রয়োজন তিন বেলার ভোগ প্রসাদ রান্নার জন্য। গ্যাসের সঙ্কটের কারণে দৈনিক এক–দেড় হাজারের পরিবর্তে দেড়শো–দু’শো জন ভক্তের মধ্যে ভোগ বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতির উপরে নজর রাখা হচ্ছে। ভগবানের ভোগ রান্নায় কোনও সমস্যা হবে না। তবে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না–হলে ভক্তদের মধ্যে ভোগ বিতরণে সমস্যা হতে পারে।’

    পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি ৩ ব্লকের নাচিন্দা মন্দিরে ভক্তরা মানত পুরণের জন্যে দেবীর (শীতলা) কাছে রান্না করা ভোগ নিবেদন করেন। তার জন্য ভক্তরা মন্দিরে আনাজ ও মাছ নিয়ে আসেন। মন্দিরের নির্দিষ্ট রন্ধনশালায় পূজারি সেই ভোগ রান্না করে দেবীকে নিবেদন করেন। তার পরে তা ভক্তদের দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা তথা মন্দির কমিটির প্রাক্তন সদস্য অমৃতাংশু প্রধান বলেন, ‘মন্দিরে দৈনিক ৫০০ জনের ভোগ রান্না করা হয়। আর শনি–মঙ্গলবার অন্তত আড়াই হাজার ভক্তের রান্না করা হয়। মাসে ৩০টির বেশি গ্যাস সিলিন্ডার লাগে। এখনও গ্যাসের জোগানে সমস্যা হয়নি। যদি দিনদুয়েকের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তা হলে আগের মতো কাঠে ভোগ রান্নার ব্যবস্থা করা হবে। দুই ব্যবস্থাই মন্দিরে রয়েছে। ভোগের পরিমাণ কাটছাঁটের চিন্তাভাবনা আপাতত মন্দির কর্তৃপক্ষের নেই।’

    দিঘার কাছে প্রাচীন নায়েকালী মন্দিরে ভোগ নিবেদন করা হয় মা কালীর কাছে। মূলত ক্ষীরভোগ বা পায়েস নিবেদন করা হয়। তবে তার ব্যবস্থা ভক্তরা নিজেরাই করায় কোনও সমস্যা হবে না বলে জানিয়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ।

  • Link to this news (এই সময়)