• নির্বাচন ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নজরের সামনে নির্বিঘ্নে পড়ল 'ভোট'
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • সুমন ঘোষ, দাঁতন

    ভোট হবে সুষ্ঠু ভাবে। কোনও রকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। উপর থেকে নির্দেশ এসেছিল এমনটাই। দিনান্তে দেখা গেল, কথা রেখেছে সকলেই! বুধবার সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রের চারপাশে মোতায়েন করা হয়েছিল ‘কেন্দ্রীয় বাহিনী’র জওয়ান। তাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছে ‘রাজ্য পুলিশ’ও। ভোট শেষে উচ্ছ্বসিত ভোটাররা সমস্বরে বলেছে, ‘পুলিশ, জওয়ান ও প্রশাসনের ভূমিকায় আমরা খুব খুশি।’

    এ দিন সকাল ১০টা থেকেই জড়ো হতে থাকে ভোটাররা। ‘আগ্নেয়াস্ত্র’ হাতে ‘পুলিশ’ ও ‘জওয়ান’রা তাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে দেয়। বুথে ততক্ষণে প্রাথমিক কাজকর্ম সামলে তৈরি হয়ে গিয়েছে ‘পোলিং’ ও ‘প্রিসাইডিং অফিসাররা (Polling and Presiding Officers)।’ ঘর থেকে নির্দেশ এল, ‘আমরা রেডি। এ বার এক এক করে ভোটারদের (Voter) পাঠিয়ে দাও।’

    সেই মতো ভোটাররা ঘরে ঢুকে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করল। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিল। তার পরে ব্যালট পেপার জমা দিল ব্যালট বক্সে (Ballot box)। ও হ্যাঁ, ভোট দেওয়ার পরে তর্জনির নখে কালিও দেওয়া হয়েছে। এ ভাবেই দাঁতন দক্ষিণ চক্রের মেনকাপুর উমাপ্রসাদ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিশু সংসদ গঠিত হলো। প্রধানমন্ত্রীর পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিল শরণ্যা পাত্র, সুপ্রীতি সামন্ত ও শুভম জানা। গণনা শেষে ৬৪ ভোট পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছে শরণ্যা। শুভম ৫১টি ও সুপ্রীতি ৩২টি ভোট পেয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী, ক্রীড়া–সংস্কৃতি মন্ত্রী এবং শিক্ষা ও পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে অনামিতা দাস, ঐশী জানা, সুপর্ণা দাস ও অমৃত মালি।

    হুবহু নির্বাচনের স্বাদ পেয়ে বেজায় খুশি খুদে পড়ুয়ারা। খুশি পুলিশ ও জওয়ানের ‘দায়িত্ব’সামলানো চতুর্থ শ্রেণির দেবানু দাস ও দেবরঞ্জন রায় মহাপাত্র। স্কুলের প্রধান শিক্ষক বাদলকুমার দাস, সহ-শিক্ষক সঞ্জয় মাইতিদের কথায়, ‘সংসদীয় রাজনীতির আদলেই আমরা এই নির্বাচন করেছি। যাতে শিশুরা এখন থেকেই খেলার ছলে ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সহজে বুঝতে পারে।’ প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার ধ্রুবজ্যোতি দাস, অনিক ভুঁইয়া, বিতান বসু, শুভম প্রধানরাও চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়া। ভোট শেষে তাদের প্রতিক্রিয়া, ‘বাপরে বাপ! ভোটের কাজ কি মুখের কথা? আজ বড্ড ধকল গেল। তবে আনন্দ পেয়েছি আরও বেশি।’ সংসদ গঠনের কাজ শেষ হওয়ার পরে খুদেদের অনেকেই শিক্ষকদের কাছে জানতে চেয়েছে, ‘আচ্ছা স্যর, আমরা কী সুন্দর শান্তিতে ভোট করলাম। কিন্তু বড়দের ভোটে এত অশান্তি হয় কেন?’ নাহ্‌, কোনও সদুত্তর মেলেনি। ঠিক তখনই ঢং ঢং করে বেজে গিয়েছে ছুটির ঘণ্টা!

  • Link to this news (এই সময়)