এই সময়: প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০২১–এর ভুলের পুনরাবৃত্তি চাইছে না বিজেপি (BJP)। এ বারের বিধানসভা ভোটে (Assembly Elections) প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া ‘ফুলপ্রুফ’ করাই গেরুয়া শিবিরের লক্ষ্য। তাতে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হলেও আপত্তি নেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। বুধবার দিল্লিতে পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীরা। সেখানে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের (2026 Assembly Elections) রণকৌশলের খুঁটিনাটি বিষয়ে নিয়ে চর্চার পাশাপাশি প্রার্থী নির্বাচন নিয়েও একপ্রস্ত আলোচনা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর।
গত বিধানসভা ভোটের প্রচারে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন বাংলায়। কার্যত ডেলি প্যাসেঞ্জারি শুরু করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi), অমিত শাহরা (Amit Shah)। অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁরা দাবিও করেছিলেন, দু’শোর বেশি আসন নিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় আসতে চলেছে এ রাজ্যে। প্রচারের হাওয়া বিজেপি এতটাই তুঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল যে, স্নায়ুচাপ যথেষ্ট বেড়ে গিয়েছিল জোড়াফুল শিবিরের উপরে। কিন্তু ভোটের ফল ঘোষণার পরে দেখা যায়, ৭৭ আসনেই থমকে গিয়েছে বিজেপির অশ্বমেধের ঘোড়া।
আশানুরূপ ফল না হওয়ার পর পর্যালোচনা পর্বে বঙ্গ–বিজেপি কাঠগড়ায় তুলেছিল প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে। দলীয় বৈঠকে দিলীপ ঘোষরা কোনও রাখঢাক না করেই পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন, টিকিট বিলির সময়ে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল। এমন অনেককেই টিকিট দেওয়া হয়েছে, যাঁদের নিজের পরিবারের লোকরাও ভোট দেননি। তৎকালীন রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেননি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও। দলের অন্দরে তাঁদের অনেকেরই ব্যাখ্যা, ২০২১–এ বিজেপির বহু আসন হারতে হয়েছে নিছক ভুল প্রার্থীর কারণে। প্রার্থী নির্বাচন ঠিক ভাবে হলে ‘দুশো পার’ না হলেও ৭৭–এর থেকে অনেক বেশি হতে পারত।
এ বার তাই প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে খুব সাবধানে পা ফেলছে পদ্ম–ব্রিগেড। সূত্রের খবর, দলীয় স্তরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অন্তত তিন বছর পার্টির সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত নন, এমন কাউকে টিকিট দেওয়া হবে না। তবে তারকা প্রার্থীর ক্ষেত্রে এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হবে। যদিও সূত্রের খবর, সম্প্রতি বিজেপির একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে দলের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল জানিয়েছেন, ২০২১–এ যে ভাবে সিনেমা তারকাদের প্রার্থী করার জন্য বিজেপি মরিয়া হয়ে উঠেছিল, এ বার সেটা হবে না। তিনি চাইছেন, পার্টির সক্রিয় নেতা–কর্মীদেরই বিধানসভা ভোটে লড়াতে। তবে রুপোলি পর্দা এবং খেলাধুলোর জগতের বাইরে সমাজের কিছু বিশিষ্ট মানুষকে এ বার বিজেপি টিকিট দিতে চাইছে বলে জানা গিয়েছে।
প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়া ত্রুটিমুক্ত করার জন্য তিনটি ভোটকুশলী সংস্থাকে নিয়োগ করেছে বিজেপি। শুধু তাদের মতামতই নয়, সংশ্লিষ্ট বিধানসভা এলাকার সাংগঠনিক নেতৃত্বের মতামতকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, একশোর কিছু বেশি আসনে প্রার্থী বাছাই নিয়ে ভোটকুশলী সংস্থা, রাজ্য নেতৃত্ব এবং জেলা নেতৃত্বের মত মিলে গিয়েছে। এক শীর্ষ পদ্ম নেতার কথায়, ‘ওই একশো আসনের প্রার্থীর নাম আমরা লক করে দিয়েছি। বাকি ১৯৪ আসনের প্রার্থী নির্বাচনও দ্রুত সেরে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে। এলাকায় ভাবমূর্তি খারাপ, এমন কাউকে আমরা টিকিট দেবো না, তিনি যতই প্রভাবশালী হোন না কেন। প্রতিটি কেন্দ্র ধরে ধরে আলোচনা চলছে। যাতে সব থেকে যোগ্য ব্যক্তিকেই আমরা টিকিট দিতে পারি। তাতে যদি প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে ক’দিন দেরি হয়, হবে।’