এই সময়: গ্যাসের দামবৃদ্ধির প্রভাব (LPG Price Hike) পড়তে শুরু করল শহর এবং শহরতলির অটো পরিষেবাতেও। একধাক্কায় বেড়ে গেল অটোর ভাড়া। মূলত যে গ্যাস দিয়ে অটো চলে, সেই এলপিজি–র (LPG) দাম মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ছিল ৫৭ টাকা ৬৮ পয়সা। কিন্তু রাতারাতি সেই দাম ৫ টাকা বেড়ে হয়ে গিয়েছে ৬২ টাকা ৬৮ পয়সা। ফলে, বুধবার থেকে বিভিন্ন রুটে অটো ভাড়া বাড়ানো হয়েছে ৩ থেকে পাঁচ টাকা পর্যন্ত। কলকাতা ছাড়াও শহরতলির একটা বড় অংশে যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে অটো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ। ফলে, আগাম ঘোষণা ছাড়া ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তে বিরক্ত এবং ক্ষুব্ধ সাধারণ যাত্রীরা। সরকারি ভাবে যদিও ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে এখনও কিছু ঘোষণা করা হয়নি।
সিঁথি মোড়ের এক অটোচালকের বক্তব্য, ‘বেশি দাম দেওয়া সত্ত্বেও গ্যাস পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এখানে এলপিজি ভরার চারটে পাম্প ছিল, দুটো ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখন গ্যাস ভরতে গেলে বাড়তি পাঁচ থেকে দশ কিলোমিটার যেতে হচ্ছে। ঘোরাঘুরি করতে করতে নষ্ট হচ্ছে পুরো একটা দিন। একে বাড়তি খরচ, তার উপর রোজগারে টান, এই পরিস্থিতি সামাল দিতে অটোভাড়া বাড়ানো হয়েছে।’
চিংড়িহাটা থেকে সল্টলেকের এসডিএফগামী এক যাত্রীর দাবি, ওই রুটে অটো ভাড়া আগে ছিল ১৫, এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকায়। সিঁথিমোড় থেকে দমদম স্টেশন পর্যন্ত অটো রুটের ভাড়াও ১০ থেকে বেড়ে হয়ে গিয়েছে ১৫ টাকা। আবার গড়িয়া-বারুইপুর, সোনারপুর-গড়িয়া রুটেও ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শহরতলির জুলপিয়া-আমতলাগামী অটোর যাত্রী বলাই দাসের দাবি, ‘আগে ১৫ টাকা ভাড়া ছিল, আজ থেকে ২৫ টাকা চাইছে।’ অটোচালকদের দাবি, ‘গ্যাসের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পাম্পে গিয়ে পর্যাপ্ত গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন জায়গা থেকে, বিশেষ করে কাটা গ্যাসের দোকান থেকে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে।’ ব্যারাকপুর ও ডানলপ রুটের এক অটোচালকের কথায়, ‘কালোবাজার থেকে কেনা কাটা এলপিজি যেখানে ৮২ টাকা লিটারে পাওয়া যেত, এখন তা লিটার পিছু ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। বেআইনি ভাবে সস্তায় অটো চালানোর এই পদ্ধতিও এখন কাজে লাগছে না।’
দক্ষিণ ২৪ পরগনার তৃণমূল অটো ইউনিয়নের সভাপতি শক্তি মণ্ডল বলেন, ‘এখনও কোনও রুটে দলগত ভাবে বা ইউনিয়নের তরফ থেকে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। কোথাও যদি কেউ বেশি ভাড়া নেন, তাহলে সেটা তঁার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।’ তিনি জানান, বিভিন্ন রুটের অটো ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জেলা নেতৃত্বের কাছে, তবে তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। উত্তর কলকাতার অটো ইউনিয়নের তরফে স্বপন সমাদ্দার বলেন, ‘এক দিকে গ্যাসের দাম বেড়ে গিয়েছে আর অন্যদিকে জোগান নেই। স্বাভাবিক ভাবেই সমস্যা হচ্ছে। তবে এমন কোনও কাজ করা হবে না যাতে সাধারণ মানুষকে অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয়।’