• ‘কারণ আছে নিশ্চয়ই’! মমতার সুরে রহস্য বাড়ালেন বোস
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: প্রায় সাড়ে তিন বছরে তাঁর সঙ্গে রাজ্য সরকারের ‘অম্ল–মধুর’ সম্পর্ক ‘মিষ্টি’ হয়েছে। বাংলার রাজ্যপাল (Governor of Bengal) পদ থেকে রহস্য রেখে তাঁর হঠাৎ বিদায়ের পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Union Home Minister Amit Shah) ‘হাত’ রয়েছে বলে প্রকাশ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যপালকে এ ভাবে সরিয়ে দিয়ে ‘অবিচার’ করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গত রেখে বিদায়বেলায় রহস্য আরও বাড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য–প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস (Governor C.V. Anand Bose)। প্রশ্নের জবাবে সংবাদমাধ্যমকে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কী খবর আছে, তা আমি জানি না। তবে তিনি যখন মন্তব্য করেছেন, তার পিছনে নিশ্চয়ই কোনও কারণ আছে।’ কারণটা কী— তা আর ভাঙেননি বোস।

    তবে নতুন রাজ্যপাল আরএন রবির (RN RAVI) হাতে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দেওয়ার আগে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠিতে বোস তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ আমার দ্বিতীয় ঘর। এর সঙ্গে আমি অঙ্গাঙ্গী ভাবে যুক্ত থাকব ও থাকতেই চাই।’ বঙ্গবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠিতে তাঁর সংযোজন, ‘আপনারা যে সমর্থন, স্নেহ ও সম্মান আমাকে দিয়েছেন, তার জন্য আমি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।...অনেক দশক আগে মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন—‘আমি বাংলা ছেড়ে যেতে পারছি না, আর বাংলা আমাকে ছেড়ে যেতে দেবে না।’ আজ আমি সেই একই অনুভূতি ভাগ করে নিচ্ছি।’ বাংলায় কী ভাবে তিনি ‘থাকতে চান’, তার ব্যাখ্যা অবশ্য দেননি রাজ্যপাল। এ দিন বাংলা থেকে বোস বিদায় নেওয়ার পরে সন্ধ্যায় কলকাতায় আসেন নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আরএন রবি। আজ, বৃহস্পতিবার সাড়ে ১১টায় লোকভবনে ২২–তম রাজ্যপাল হিসেব শপথ নেবেন তিনি।

    ২০২২–এর নভেম্বরে পূর্বসূরি জগদীপ ধনখড়ের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সঙ্গে তাঁর টানাপড়েন শুরু হয়। রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ থেকে শুরু করে রাজভবনের এক মহিলা কর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ— বিভিন্ন ইস্যুতে সরাসরি বোসকে বারবার নিশানা করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের অন্য নেতা–মন্ত্রীরা। তবে গত সপ্তাহে হঠাৎ বোসকে সরিয়ে দেওয়ার পরে তৃণমূলনেত্রী ও তাঁর দলের মনোভাব খানিকটা বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত প্রকাশ্যে এসেছে। বোসের বিদায়ের পিছনে এমনও জল্পনা রয়েছে যে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী–সহ বঙ্গ–বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে নাকি তাঁর সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। যদিও এ দিন খোলা চিঠি বা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ নিয়ে মুখ খোলেননি বোস। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলনেতার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল আমার।’

    কিন্তু হঠাৎ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত কেন? বোস বলেন, ‘খেলার নিয়মই এটা, থামতে জানতে হয়। আমি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে ৪০ মাস কাজ করেছি। এমন পরিস্থিতি এল, যেখানে বিবেকের কাছ থেকে জবাব এল, পদত্যাগের সময় এসেছে। রাজ্যপাল হিসেবে আমি সব সময়ে রাজনীতি থেকে দূরে ছিলাম। রাজনৈতিক চাপ কোনও প্রভাব ফেলেনি আমার উপরে। আমার মনে হয়েছিল বিদায় জানানোর সময় এসেছে।’

    মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ ন‍িয়ে বোসের মন্তব্য, ‘উনি আসতেন, দেখা করতেন। সৌজন্যমূলক এবং পেশাদার সম্পর্ক ছিল আমাদের। আমি চলে যাচ্ছি বলে বাংলার শিষ্টাচার মেনে উনি আমার সঙ্গে দেখা করার কথা ভেবেছিলেন, বিদায় জানাতে এসেছিলেন।’ তা হলে রাজ্য সরকারের সঙ্গে তাঁর অম্ল–মধুর সম্পর্ক এখন কেমন? বোসের কথায়, ‘টক-মিষ্টি সম্পর্ক মিষ্টত্ব পেয়েছে।’ পশ্চিমবঙ্গের ভোটার হিসেবে রাজ্যে ভোটও দেবেন বলে জানিয়েছেন বোস। যদিও বোসকে ঘিরে এই রাজনৈতিক টানাপড়েন নিয়ে বঙ্গ–বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের কটাক্ষ, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ওঁর বাসভবনে গিয়ে ভাইফোঁটা দেবেন, অ-আ-ক-খ কতটা শিখেছেন, দেখবেন। কারণ, তখন অনন্ত সময় পাবেন তিনি। কারণ আর তৃণমূলের সরকার সামলানোর ঝক্কি পোহাতে হবে না তাঁকে। বিজেপি-র সরকার থাকবে তখন।’

  • Link to this news (এই সময়)