এই সময়, বারাসত ও মথুরাপুর: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (West Asia War) আঁচ এসে পড়ল বাঙালি গৃহস্থের হেঁসেলে। এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের (LPG) সরবরাহের সঙ্কটে প্রভাব পড়েছে স্কুলের বাচ্চাদের জন্য মিড–ডে মিলের (MID DAY MEAL) রান্না থেকে রাজ্য সরকারের মা ক্যান্টিনে। গ্যাসের জন্য অনলাইন বুকিং করা হলেও সরবরাহের সঙ্কট থাকায় চিন্তায় রয়েছেন জেলার বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র ও মা ক্যান্টিন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ। বিকল্প হিসেবে অনেক স্কুল কর্তৃপক্ষ মিড–ডে মিলের রান্নার জন্য কাঠের জ্বালানির দিকে ঝুঁকছেন।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সব প্রাইমারি থেকে হাইস্কুলের পড়ুয়াদের জন্য প্রতিদিন মিড–ডে মিলের রান্না হয়। এক একটা স্কুলে প্রতিদিন পাঁচশোর বেশি ছাত্রছাত্রী খাবার খায়। জেলার আইসিডিএস সেন্টারগুলিতেও রান্না হয়। স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা অনুযায়ী প্রতি মাসে ছয় থেকে আটটি গ্যাসের সিলিন্ডার লাগে। ভাত, ডাল সব্জি এবং ডিম রান্নার জন্য প্রতিদিন দু’টি গ্যাসের সিলিন্ডার জ্বালিয়ে রান্না করতে হয়। এখন দুটির পরিবর্তে একটি সিলিন্ডার নিয়ে রান্না করতে হচ্ছে মিড–ডে মিল কর্মীদের।
বারাসত–২ ব্লকের সিডিপিও রাজশঙ্কর পাণ্ডে বলেন, ‘অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে দু’টি করে গ্যাস সিলিন্ডার রয়েছে। এই মুহূর্তে সমস্যা হচ্ছে না। পরিস্থিতি দেখে পদক্ষেপ করা হবে।’ দত্তপুকুর আদর্শ প্রাইমারি স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুমন দে বলেন, ‘আমাদের ৭৭৮ জন পড়ুয়ার জন্য মাসে ৭–৮টা সিলিন্ডার লাগে। বর্তমানে একটা সিলিন্ডার রয়েছে। আমি অনলাইনে বুকিং করিয়েছি। কিন্তু কবে ডেলিভারি পাব জানি না। তাই এ দিন কাঠগোলা থেকে কাঠ কিনে রেখেছি।’
একই পরিস্থিতি জেলার বিভিন্ন পুরসভার মা ক্যান্টিনগুলোতেও। মধ্যমগ্রাম পুরসভা পরিচালিত মা ক্যান্টিন থেকে প্রতিদিন শতাধিক মানুষ মাত্র ৫ টাকার বিনিময়ে দুপুরের খাবার খান। ভাত, ডাল, সয়াবিন ও ডিমের ঝোল দেওয়া হয় তাদের। মাসে ১০ থেকে ১২টি সিলিন্ডার লাগে। গ্যাসের সঙ্কটের জেরে মা ক্যান্টিন চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন পুরসভা কর্তৃপক্ষ। রান্না বন্ধ হলে কাজ হারানোর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও। মধ্যমগ্রাম পুরসভার (Madhyamgram Municipality) চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল অরবিন্দ মিত্র বলেন, ‘রাজ্য সরকারের এই প্রকল্পে বহু নিম্ন আয়ের মানুষ ভরসা করেন। এ দিন থেকে একটা সিলিন্ডার ব্যবহার করা হচ্ছে।’ হাবরা পুরসভার চেয়ারম্যান নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, হাবরা হাসপাতালের মা ক্যান্টিনে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ জন খাবার নেন। মাসে ১২-১৫টির মতো সিলিন্ডার লাগে। এখন বুকিং করা যাচ্ছে না। বর্তমানে মাত্র দু’টি সিলিন্ডার মজুত রয়েছে।
কাঠের জ্বালানিতে রান্নার কাজ চলছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্কুলগুলিতেও। বুধবার সকালে মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুলে গ্যাসের সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন স্কুল কর্তৃপক্ষ। জেলা থেকে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও সুরাহা না মেলায় বাজারে চড়া দামে কাঠ কিনে এনে রান্নার কাজ শুরু করা হয়। আগামিদিনে কী ভাবে চলবে মিড–ডে মিল তা নিয়েই চিন্তায় স্কুল কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে স্কুলে পঞ্চম থেকে অষ্টম পর্যন্ত পড়ুয়ার সংখ্যা ২২৫০ জন। প্রতিদিনই গড়ে ১৪০০ জন পড়ুয়া খায় স্কুলে। রান্না করার জন্য মাসে কমবেশি ৩০টি সিলিন্ডার লাগে। একই পরিস্থিতি স্কুলের হস্টেলেও। এই স্কুলের অধীনে পাঁচটি হস্টেল রয়েছে। প্রায় ৫০০ জন পড়ুয়ার দু’বেলা রান্নার জন্য গ্যাস সিলিন্ডার লাগে ৬০টি। গত কয়েকদিন ধরে বুকিং–এর জটিলতা ও হোম ডেলিভারি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মজুত গ্যাস শেষ হয়ে গিয়েছে। প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি বলেন, ‘সিলিন্ডার মিলছে না। সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপাতত কাঠ দিয়ে চালানোর। শেষমেশ ড্রাই ফুড মিড ডে মিলে ব্যবহার করতে হবে।’