পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে যখন রান্নার গ্যাসে আগুন। অভ্যন্তরীণ বাজারেও তেলের দাম বাড়তে পারে ভেবে আশঙ্কায় কাঁটা আমজনতা। ঠিক তখনই দাম পড়েছে ফলের। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে তরমুজের দাম। একাধিক প্রতিবেদনে দাবি, কোথাও কোথাও নাকি ৭ টাকা কেজি দরেও বিক্রি হচ্ছে তরমুজ। যা এই সময়ে বেশ কম দাম।
সামনে ইদ, এখন রমজান চলছে। এই সময়ে ফলের চাহিদা আকাশছোঁয়া থাকে। তরমুজও বাদ যায় না তালিকা থেকে। দামও থাকে অনেকটা বেশি। কিন্তু এ বার কেন দাম কম তরমুজের? একাধিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ইরান যুদ্ধের ভিতর। ইজ়রায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে গোটা পশ্চিম এশিয়া উত্তপ্ত। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে পণ্য চলাচল প্রায় বন্ধ। এদিকে এই সময়ে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ তরমুজ পশ্চিম এশিয়ার নানা দেশে রপ্তানি হয়। পণ্য পরিবহণ হোঁচট খাওয়ায় রপ্তানিও মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেয়েছে।
এই সময়ে চাহিদা বেশি থাকায় রপ্তানি হয়, তার ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য রেখে দাম বেড়ে যায়। দাম পান চাষি এবং ব্যবসায়ীরাও। কিন্তু এ বার সেই হিসাবে গন্ডগোল হয়েছে। শিপিং রুটে, বাণিজ্যের লেনদেনে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বহু ক্ষেত্রে রপ্তানি রুখে গিয়েছে। অনেক জায়গায় রপ্তানি থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় যে প্রবল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তার জেরেই এমনটা হয়েছে বলে একাধিক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট সূত্রে খবর।
রপ্তানি হোঁচট খাওয়ায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তরমুজের জোগান অনেক বেড়ে গিয়েছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেড়ে যাওয়ার অর্থনীতির নিয়মেই দাম পড়ে গিয়েছে। এনডিটিভি ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক সপ্তাহে পাইকারি বাজারে তরমুজের দামে ব্যাপক পতন দেখা গিয়েছে। দিল্লির আজাদপুর মান্ডিতে ফেব্রুয়ারিতে তরমুজের দাম ছিল প্রতি কুইন্টাল ৩২৭৫ টাকা। মার্চে সেটা কমে দাঁড়িয়েছে ২৩০১ টাকা প্রতি কুইন্টাল। সারা দেশেই ছবি মোটের উপর এক। সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে, তরমুজ সাত টাকা কিলো দরে বিকোচ্ছে। আদতে অত কম না হলেও, স্বাভাবিক দামের তুলনায় এ বার খুচরো বাজারে অনেকটাই কম তরমুজের দাম।
আন্তর্জাতিক স্তরে ভূ-রাজনীতির সমস্যা এবং যুদ্ধ যে কোনও দেশের স্থানীয় ক্ষেত্রেও বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে, তরমুজই তার বড় উদাহরণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।