• সেনা জওয়ান-সহ সাধারণ নাগরিকদের পণবন্দি, নতুন করে উত্তেজনা মণিপুরে
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • মণিপুরে ফের অশান্তি। সেনা জওয়ান-সহ অন্তত ১৮ জন সাধারণ নাগরিকদের পণবন্দি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাঁদের পণবন্দি করার অভিযোগ উঠেছে কুকি (Kuki) গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। বুধবারের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে মণিপুরের ( Manipur) উরখুল এলাকায়।

    ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইয়নাম খেমচাঁদ সিং (Yumnam Khemchand Singh)। আটক করে রাখা সবাইকে নিরাপদ ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। এরই সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করতে পুলিশকে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।

    দিন কয়েক আগেই উত্তেজনা ছড়িয়েছিল উরখুল (Ukhrul) এলাকায়। পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল একাধক বাড়ি। ওই ঘটনার জেরে রবিবার উরখুল জেলায় পাঁচ দিনের জন্য ইন্টারনেট সাসপেন্ড (Internet Suspend) করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তার মধ্যেই বুধবার এই ঘটনা ঘটেছে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, এই ঘটনা ঘটেছে উখরুল জেলার লিতান থানার উখরুল–ইম্ফল সড়কে (Ukhrul-Imphal Road)।

    জানা গিয়েছে, তিনটি গাড়িতে করে ফিরছিলেন মহিলা, বয়স্ক, শিশু-সহ ১৮ জন। তাঁরা সকলেই নাগা ( Naga) উপজাতির।

    সাংকাই এলাকার থাওয়াই কুকি গ্রামে তাঁদের যানবাহনগুলিকে থামানো হয়। সেখান থেকেই ওই ১৮ জনকে পণবন্দি ((Manipur Hostage) করেছে কুকিরা বলে অভিযোগ। তাঁদের মধ্যে একজন ভারতীয় সেনার জওয়ানও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।



    এই ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ করার দাবি করা হয়েছে নাগাদের সংগঠনের তরফে। তাঁদের লক্ষ্য করে পরিকল্পনা করেই হামলা করা হয়েছে বলে দাবি তাংখুল নাগা লং (Tangkhul Naga Long) সংগঠনের। সেই রাজ্যের সরকারকে এই নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

    সূত্রের খরব, দিন কয়েক আগেই লিতান (Litan) থানা এলাকায় হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। কুকি সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের হেনস্থা করার অভিযোগ ওঠে নাগাদের বিরুদ্ধে। এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয় বলেও অভিযোগ। পোস্ত চাষের বিরুদ্ধে অভিযানের পরেই ওই ঘটনা ঘটে। নাগা সম্প্রদায়ের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেআইনি ভাবে পোস্ত চাষ করছে কুকিরা।

    সূত্রের খবর, কুকি সংগঠন কমিটি অন ট্রাইবাল ইউনিটির (CoTU) দাবি, প্রতিশোধ হিসেবে এই পদক্ষেপ করেছে করা হয়েছে তাদের তরফে।

    জানা গিয়েছে, নাগা সম্প্রদায়ের যাঁদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁরা একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মোবাইল ফোনও ( mobile phones) কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    তবে, এই ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ করে ওই বাসিন্দাদের অবিলম্বের মুক্তির ব্যবস্থা করার জন্য পুলিশ এবং প্রশাসনের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

  • Link to this news (এই সময়)