এই সময়: দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে অমিত শাহ (Amit Shah) বিজেপির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) জমানার ‘কয়লা কেলেঙ্কারি’ (Coal Scam) নিয়ে তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছিলেন। তৃণমূল পাল্টা বিজেপির (TMC VS BJP) আসানসোল সাংগঠনিক জেলা কমিটিতে এক ‘কয়লা মাফিয়া’কে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলল।
তৃণমূল ভবনে বুধবার রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা এবং সাংসদ পার্থ ভৌমিক যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেছেন, বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা কমিটিতে জয়দেব খাঁ নামে এক ব্যক্তিকে ‘স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য’ করা হয়েছে। অতীতে বিজেপির তাবড় নেতাদের সঙ্গেও এই জয়দেবকে দেখা গিয়েছে। পার্থ–শশী এ দিন এই সংক্রান্ত একাধিক স্টিল ছবিও দেখিয়েছেন (যার সত্যতা যাচাই করেনি ‘এই সময়’)। শশী বলেন, ‘কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মথুরাপুরে এসে বাংলায় কয়লা মাফিয়া আর দুর্নীতি নিয়ে বড় বড় কথা বলে গিয়েছেন। এখন আসানসোল দক্ষিণ থেকে কয়লা মাফিয়া জয়দেব খাঁকে বিজেপির স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য করা হয়েছে।
বিজেপি ৯ মার্চ জয়দেব খাঁকে এই চিঠি দিয়েছে। এর পিছনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি থেকে শুরু করে দিল্লির সদর দপ্তর আর দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্বের সায় আছে।’ বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য তালিকাও দেখিয়েছেন শশী–পার্থ। পার্থর কথায়, ‘যে দল একদিন কয়লা চুরি নিয়ে বড় বড় কথা বলত, তারা আজ কুখ্যাত এক কয়লা মাফিয়াকে দলের স্থায়ী সদস্য করে নিল!’
তৃণমূলের এই আক্রমণের মুখে রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি তথা আসানসোল দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘২০২১–এ দিলীপ ঘোষের হাত ধরে উনি দলে যোগ দিয়েছিল। উনি দলের সক্রিয় কর্মী। কেউ বিজেপিতে এলে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর মামলা দেওয়া হয়। আমার বিরুদ্ধে যদি অস্ত্র আইনে মামলা হয়, সেখানে যে কোনও বিরোধী নেতা–নেত্রীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে পারে।’
বিজেপির আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি দেবতনু ভট্টাচার্যের যুক্তি, ‘জয়দেব খাঁ আমাদের দলে রয়েছেন, আমাদের দলে থাকবেন, তাঁর বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল তা থেকে তিনি ছাড় পেয়ে গিয়েছেন।’ দুর্গাপুরে তৃণমূলের আসানসোল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীও এ দিন সাংবাদিক বৈঠক করে এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, গেরুয়া শিবিরের সংসদীয় টিমেও ধর্ষণ ও মহিলা নির্যাতনে অভিযুক্ত অনেক নেতা রয়েছেন। অগ্নিমিত্রা পাল্টা বলেছেন, ‘তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে ভূরি ভূরি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তৃণমূল নেতৃত্ব সেগুলো নিয়ে ভাবুন।’+