নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গোলপার্ক মোড়ে মোমোর দোকান। বুধবার দুপুর থেকে ভালোই ব্যবসা চলছে। কিন্তু তবুও দোকানের মালিকের কপালে চিন্তার ভাঁজ। কারণ গ্যাস নেই। মালিক বিশ্বনাথ বর বললেন, ‘বাড়ি থেকে গ্যাস নিয়ে এসে কাজ চালাচ্ছি। যা স্টক আছে খুব বেশি হলে দু’দিন চলবে। তারপর দোকান বন্ধ করে দিতে হবে।’ গ্যাসের সমস্যায় পড়েছেন অধিকাংশ খাবারের দোকান। একটি ভাতের হোটেলের মালিক বললেন, ‘অনেক রকম তরকারি বানাতে পারছি না। গ্যাসের যা অবস্থা কতদিন চালাতে পারব জানি না। দোকান চালাতে হলে অন্য কিছু পথ বের করতে হবে।’
বাড়িতে রান্না কিভাবে হচ্ছে? বিশ্বনাথবাবু বলেন, ‘বাড়িতে একটা ইন্ডাকশন কুকার এনে কাজ চালানো হচ্ছে। কী করব? আমরা তো নিরুপায়। দোকান যদি বন্ধ করে দিতে হয় খাব কি? ভয়ঙ্কর বিড়ম্বনায় পড়েছি। পেট চালানো দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ পেট চালাতে গিয়েই এখন প্রবল সমস্যায় পড়েছে শহর, শহরতলির ছোট থেকে বড়ো দোকানদাররা। গোলপার্ক মোড় থেকে একটু দূরে প্রদীপবাবুর ভাতের হোটেল। ফুটপাতে বেঞ্চ পেতে খাওয়া-দাওয়া হয়। স্বামী-স্ত্রী মিলে দোকান চালান। প্রদীপবাবু বললেন, ‘আগে ৫-৭টা তরকারি করতাম। এখন কিছুই করার নেই। গ্যাস পাচ্ছি না। এই দু’টো সিলিন্ডার আছে, এই দিয়েই চালাতে হবে। তাই তরকারির সংখ্যা কমিয়ে ৩ টে করে দিয়েছি।’ এভাবে কতদিন চলবে? অনেকের মনে পড়ছে কোভিডের দিনগুলির কথা। প্রদীপবাবু বললেন, ‘বিকল্প কিছু ভাবতে হবে। না হলে ক’দিন বাদে ভাত জুটবে না।’ কলকাতার অধিকাংশ দোকানদার জানাচ্ছেন, ‘সমানে ফোন করে চলেছি কিন্তু গ্যাসের লোক ফোন ধরছে না। টাকা দিয়েও মিলছে না। ফুটপাতে ইন্ডাকশন চালানোর মতো ব্যবস্থা থাকে না।’ সবমিলিয়ে প্রবল সংকটে ছোট দোকানদাররা।