• আগুনে পুড়ে মৃত কোচবিহারে সরকারি হাসপাতালের নার্স, খুন নাকি সুইসাইড? দাম্পত্য কলহ ছিল
    আজ তক | ১২ মার্চ ২০২৬
  • কোচবিহারে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক নার্সের। মৃতের নাম ছন্দা রায় (৩৫)। তিনি কোচবিহারের মহারাজা জিতেন্দ্র নারায়ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মাতৃমা ম্যাটার্নিটি বিভাগে কর্মরত ছিলেন। ভাড়া বাড়িতে থাকতেন স্বামীর সঙ্গে। সেখানেই তাঁর সঙ্গে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। হাসপাতালে ভর্তি তাঁর স্বামীও। তবে খুন না আত্মহত্যা, নাকি দুর্ঘটনা, তা নিয়ে ধন্দ রয়েছে। 

    জানা গিয়েছে, মৃতার স্বামী রঞ্জিত রায় পেশায় একজন গাড়ি চালক। তিনিও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

    কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে কোচবিহার শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বকশিবাড়ি এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে ওই এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকতেন ছন্দা রায়। 

    স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ছন্দাকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় আচমকাই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। চিৎকার শুনে অনেকেই আশপাশের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর অচেতন হয়ে পড়েন ওই নার্স। প্রতিবেশীরা তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। 

    দাম্পত্য কলহ?
    পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, দম্পতির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই অশান্তি চলছি। গাড়ি কেনা নিয়ে সমস্যা ছিল। ছন্দা রায় তাঁর স্বামীর জন্য একটি গাড়ি কিনে দিয়েছিলেন। শিলিগুড়িতে সেই গাড়ি চালিয়ে রোজগার করুক স্বামী, চাইতেন ছন্দা। গাড়ির ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে প্রায়ই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হত। এই অশান্তি একসময় মহিলা থানাতেও পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও তখন কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। 

    জানা গিয়েছে, দম্পতির একটি মেয়ে রয়েছে। সে বর্তমানে দার্জিলিঙের একটি বোর্ডিং স্কুলে পড়াশোনা করে। 

    ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমেছে কোচবিহার পুলিশ। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নার্সের স্বামী রঞ্জিত রায় বর্তমানে পুলিশি নজরদারিতে চিকিৎসাধীন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলে বয়ান রেকর্ড করা হবে বলে খবর। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, প্রাথমিক ভাবে এটি দাম্পত্য কলহের জেরে আত্মহত্যার ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে খুনের তত্ত্বও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। 

     
  • Link to this news (আজ তক)