• বাংলায় নতুন রাজ্যপালের শপথ আজ, মমতা, শুভেন্দুকে একসঙ্গে দেখা যাবে?
    আজ তক | ১২ মার্চ ২০২৬
  • বুধবার রাতে কলকাতায় পা রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। আর আজ, বৃহস্পতিবার তাঁর শপথগ্রহ অনুষ্ঠান। সকাল ১১টায় তিনি শপথ নেবেন। এমনটাই জানান হয়েছে নবান্নের তরফে। 

    আর যতদূর খবর, এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে থাকবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও আমন্ত্রণ জানান হয়েছে বলে খবর। 

    এছাড়া এ দিনের অনুষ্ঠানে থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। পাশাপাশি বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও থাকতে পারেন শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে।

    মাথায় রাখতে হবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। তারপরই ঘোষণা হয়ে যায় যে আর এন রবি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন। আর সেই খবরেই রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে যে ইচ্ছে করে বোসকে পদত্যাগ করানো হয়েছে। তাঁকে চাপ দিয়ে করানো হয়েছে পদত্যাগ। যদিও এই দাবি মানতে চায়নি কেন্দ্রীয় সরকার। 

    কে আর এন রবি? 
    বিহারের পটনায় জন্ম আর এন রবির। ছোট থেকে মেধাবী রবি। তিনি ১৯৭৪ সালে পাশ করেন পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পাশ করেন। এরপর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা। সেই পরীক্ষা ক্র্যাক করে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস বা আইপিএস-এ যোগ। 

    আর আইপিএস-এ যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর জীবনে উত্থান শুরু। গোয়েন্দা হিসেবে দর বাড়তে থাকে। কেরিয়ারের মধ্যগগণে তিনি সিবিআইয়ের দায়িত্ব নিয়ে ভালভাবেই সামলেছেন।

    এখানেই শেষ নয়, জানা যাচ্ছে ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি-তে কাজ করার সময় তিনি জম্মু-কাশ্মীরের অন্দরে সমস্যা মেটাতেও উদ্যোগী হয়েছিলেন। এমনকী দেশের একাধিক মাওবাদী প্রভাবিত এলাকাতেও তিনি কাজ করেছেন। পরিস্থিতি সামলানোর এবং মাওবাদী দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। 

    আর শুধু দেশের গণ্ডিতেই আটকে নেই রবির কাজ। ভারত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও তাঁর কাজের গুণগান গাওয়া হয়। কারণ তিনি আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য একাধিক তথ্য আদানপ্রদান করে এসেছেন। এহেন দুঁদে গোয়েন্দা রবি ২০১২ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন। এরপর শুরু দ্বিতীয় ইনিংস। 

    ২০১৪ সালে তাঁকে নাগা শান্তি আলোচনার জন্য নিয়োগ করা হয়। তিনি সংকট পরিস্থিতি সামলে নিতে সাহায্য করেন বলেই জানা গিয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে তাঁকে ডোভালের ডেপুটি নিযুক্ত করা হয়েছিল।

    রাজ্যপাল হিসেবে জার্নি
    প্রথমে তাঁকে ২০১৯ সালে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল করা হয়। তারপর দায়িত্ব দেওয়া হয় তামিলনাড়ুর। আর সেখান থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। ডিএমকে-এর শাসিত তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করার পর বারবার তাঁর সঙ্গে ঝামেলা বেঁধে যায় মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিনের। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যায় যে ২০২৩ সালে স্ট্যালিন মুখ্যমন্ত্রী রবির চা চক্রেও অংশ নেননি। সেই সময় তিনি রবিকে তামিলনাড়ু বিরোধী বলে দাগিয়ে দেন। এখন সেই রবিকেই দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বাংলার।


     
  • Link to this news (আজ তক)