নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথমে ঘোষণা, গ্যাস নিয়ে কোনো সংকট নেই। ঠিক তারপরই কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারি। একদিকে কেন্দ্রের ঘোষণা, পর্যাপ্ত গ্যাস মজুত আছে। আর অন্যদিকে, ৩০ দিনের আগে বুকিং নেওয়া হচ্ছে না। বাণিজ্যিক সিলিন্ডার বিক্রি বন্ধ। আর এর ফল? চূড়ান্ত হয়রান আম জনতা। এর দায় কার? মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরাসরি আক্রমণ, ‘মোদি সরকারের।’
বুধবার তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেছেন, ‘পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে দেশে গ্যাসের সংকট হতে পারে জেনেও আগেভাগে কেন পরিকল্পনা নেওয়া হয়নি? আবার হঠাৎ করে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন ১৯৫৫’এর মাধ্যমে কঠোর নিয়ন্ত্রণ জারিই বা কেন করা হয়েছে?’ কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে এককথায় জনবিরোধী বলে তোপ দেগেছেন মমতা। বলেছেন, কেন্দ্রের এই দুই জনবিরোধী নীতির জন্যই মানুষের মনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। লাগাতার দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে আম জনতা।
গত দু’দিন ধরেই গ্যাস সংকটের উপর নজর রাখছিলেন মমতা। বুধবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মানুষের হয়রানির খবর আসতে শুরু করে নবান্নে। সেই খবর পৌঁছায় তাঁর কাছেও। তারপরই কেন্দ্রের জনবিরোধী আচরণের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ কেন্দ্রীয় সরকারের পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের হাতে। তারা আগেই হঠাৎ ডিক্লেয়ার করে দিল, ২৫ দিনে একটির বেশি গ্যাস পাওয়া যাবে না। হঠাৎ করে কেন্দ্র নিজে যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে তো সুবিধাবাদী লোকেরা সুযোগ নেবেই!’ তাঁর যুক্তি, এই ঘোষণা করার অন্তত সাত দিন আগে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা উচিত ছিল। যাতে তাঁরা কিছুটা প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পান। সরকার জানত যে যুদ্ধ চলছে, তা সত্ত্বেও আপৎকালীন মজুত বা ‘বাফার স্টক’ কেন তৈরি রাখা হয়নি? এই প্রশ্ন দিল্লির দরবারে ছুড়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রান্নার গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সবরকমের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে এদিন দুপুরে জেলাশাসকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন একথা জানিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। কেন্দ্র স্বীকার করেছে, যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ ধাক্কা খেয়েছে। পরিস্থিতি যে এই পথেই চলেছে, তা নিশ্চয়ই কেন্দ্রের অজানা ছিল না? তাহলে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই প্রশ্ন তুলে কেন্দ্রের উপর চূড়ান্ত বিরক্ত মমতা বলেন, ‘এসমা জারি করে কী করবে? যাকে তোমার পছন্দ নয়, তাকে তুমি গ্রেপ্তার করবে। তাতে কি মানুষের সমস্যার সমাধান হবে?’
কেন্দ্রের এই হঠকারী সিদ্ধান্ত মজুতদারদের হাত শক্ত করেছে বলেও মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সুর সপ্তমে চড়িয়েছেন তিনি। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এদিন বিকেলেই আলিপুরের সৌজন্য সভাগৃহে পদস্থ আধিকারিক ও কেন্দ্রীয় তেল সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। মজুতদারি ঠেকাতে রাজ্যস্তরে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং শিল্পসচিব বন্দনা যাদবকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় নোডাল অফিসার নিযুক্ত করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। সমস্যা ঠেকাতে রাজ্য এসওপি জারি করবে বলেও ঘোষণা মমতার। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতির আপডেট নেবেন মুখ্যমন্ত্রী।