• গ্যাস সংকটে পাড়ার দোকানিই ত্রাতা, রাতের রান্নার পাট বন্ধ রেখে রুটির দোকানে ভিড় বাসিন্দাদের
    বর্তমান | ১২ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: গ্যাস বাঁচাতে রুটির দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন হুগলির নাগরিকদের একাংশ। রাতের রান্নার পাট আপাতত তুলে রেখে রুটিতেই পেটপুজোর পরিকল্পনা গ্যাস সংটের বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চুঁচুড়া থেকে চন্দননগর, ডানকুনি থেকে শ্রীরামপুর, রান্নার গ্যাসের বিপর্যয়ে শহুরে মানুষের ভরসার জায়গা রুটির দোকান। আর তার জেরে আমচকা পথেপ্রান্তরের রুটির দোকানে গ্রাহক বেড়েছে। হুগলিতে রুটির দোকানগুলিতে এখনও কয়লা বা গুলের উনুন চালু আছে। কোথাও কোথাও গ্যাস বা ইনডাকশনও ব্যবহার হয়। কিন্তু ছোটো-বড়ো কয়লার চুল্লি চলে। ফলে, রুটি বিক্রেতারাও বাড়তি দু’টি পয়সার মুখ দেখছেন। উলটোদিকে রাতের রান্না বাঁচিয়ে কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছেন গৃহস্থও।
    চুঁচুড়া শহরের প্রায় সবরাস্তার ধারে রুটি বিক্রি হয়। চন্দননগর বা শ্রীরামপুর এমনকি ডানকুনিতেও রাতে রুটি বিক্রির চল আছে। দোকান মালিকদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে গ্রাহক। চেনা গ্রাহক যেমন রুটি সংখ্যা বাড়াচ্ছেন তেমনই অচেনা গ্রাহকও এসে জুটে যাচ্ছেন। যেখানে রুটির সঙ্গে আলুর দম, বাঁধকপির ঘণ্ট, মুরগির মাংস, ডিমকারি পাওয়া যায়, সেখানে ভিড় আরও বেশি। চন্দননগরের হরিদ্রাডাঙার এক রুটি বিক্রেতা মিতালি দাস বলেন, আমার দোকানে তিনদিন আগেই গড়ে ৬০টি রুটি বিক্রি হতো। গত কয়েকদিনে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গিয়েছে। আমরা মাটির উনুনে শুধু রুটিই করি। কিছুটা দূরে আরও এক বিক্রেতার কাছে রুটির সঙ্গে ঘুঘনি, মাংস, আলুর দম পাওয়া যায়। সেখানে ভিড় আরও বেড়েছে।

    শ্রীরামপুরের রুটি ব্যবসায়ী প্রমোদ সাউ বলেন, গৃহস্থরা বলছেন তাঁরা রাতের রান্নার পাট আপাতত বন্ধ রাখছেন। রুটি, তরকারি কিনে রাত পার করতে চান। আমার মাটির উনুনের সঙ্গে ইনডাকশন ও বাণিজ্যিক গ্যাসও আছে। চালু দোকান। বাড়তি খদ্দের ছেড়ে দিচ্ছি না। গ্যাস ফুরিয়ে গেলে তখন নতুন করে ভাবব।

    মজা হচ্ছে রাতের গ্যাস বাঁচাতে গিয়ে মাছে-ভাতে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসেও বদল এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডানকুনির এক গৃহকর্তা হাসতে হাসতে বলেন, আমার বাড়িতে আমি ছাড়া আর কেউ রুটি-তরকা মুখে তুলত না। পরিস্থিতির জেরে রাতের রান্না বন্ধ। সবাই মিলেই রুটি-তরকা, চানামশলা-রুটি খাচ্ছি।

    গ্যাস সংকটের জেরে শুধু গৃহস্থের হাড়ির হাল বদলেছে তাই নয়, আতঙ্কের পরিবেশ হাসপাতাল থেকে স্কুল, এমনকি রেস্তোরাঁগুলিতেও। হাসপাতালের রোগীদের পথ্য সরবরাহ থেকে মিড-ডে মিল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি তৈরি হয়েছে। আবার, হোটেল-রোস্তরাঁগুলিও ক’দিন ব্যবসা করতে পারবেন তা নিয়ে চিন্তায় আছেন। পেটরোগা বাঙালি জীবনে গ্যাসের সমস্যা বরাবরের সঙ্গী। এবার এক গ্যাস নিয়ে ভিন্ন সমস্যায় পেটের বদলে মাথাব্যথা বেড়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)