বাংলার ভোটে পৃথক ছক! বুথের বাইরের অশান্তিতেও পুনর্নির্বাচন
বর্তমান | ১২ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পাঁচ রাজ্যে ভোট হলেও পাখির চোখ পশ্চিমবঙ্গ! দু’দিনের রাজ্য সফরে এসে একথা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। আর তাই রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি বাংলার ভোট নিয়ে নয়া ছক বেঁধে ফেলেছে কমিশন। নিয়ম অনুযায়ী, বুথের অভ্যন্তরীণ অশান্তির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট বুথে বা ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়ে থাকে কমিশন। এবার সেই নিয়মকে বুথের বাইরেও এনে দাঁড় করানো হয়েছে। আর তা স্রেফ বাংলার জন্য। অর্থাৎ, আসন্ন বিধানসভা ভোটে যদি কোনো বুথের বাইরে ১০০ মিটারের মধ্যে অশান্তির অভিযোগ ওঠে, তাহলে কমিশন সেখানে পুনর্নির্বাচন করাতে পারে।
ইতিমধ্যে রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিক ও ভোটের কাজে নিযুক্ত নোডাল এজেন্সির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকে এই বার্তাই নাকি দিয়েছে কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সূত্রের খবর, জ্ঞানেশ কুমার প্রশাসনিক আধিকারিকদের জানিয়ে দিয়েছেন, এর আগে শুধু বুথের ভিতরে থাকত সিসি ক্যামেরা। এবার বুথের বাইরেও থাকবে। ওই ক্যামেরায় বুথের বাইরের ১০০ মিটার ও তার বেশি এলাকা কমিশনের নজরদারিতে থাকবে। অতীতে বাংলায় একাধিক বুথে সিসি ক্যামেরা বিকল করে দেওয়ার মতো অভিযোগ কমিশনের কাছে এসেছে। সেই তথ্য উল্লেখ করে ফুল বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনো বুথে সিসি ক্যামেরা বিকল করা হলে, সংশ্লিষ্ট বুথে সঙ্গে সঙ্গে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন।
কোন বুথে পুননির্বাচন হবে, তা নিয়ে কমিশনের নির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। ভোট গ্রহণের পর প্রতিটি বুথের প্রক্রিয়া স্ক্রুটিনি করা হয়ে থাকে। সাধারণত ফর্ম ১৭এ (ভোটের সময় প্রিসাইডিং অফিসার এবং পোলিং অফিসাররা ভোটদানের তথ্য যে ফর্মে নথিভুক্ত করেন) স্ক্রুটিনি করার সময় কোনো গোলযোগ পেলেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট বুথে। এছাড়াও দেখা হয় প্রিসাইডিং অফিসারের ডায়েরি। মাইক্রো অবজার্ভার, সেক্টর অফিসারদের রিপোর্ট, ওয়েব কাস্টিং এবং সিসি ক্যামেরা ফুটেজে কোনো গণ্ডগোল ধরা পড়লেও তার ভিত্তিতে পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সূত্রের খবর, এবার শুধু বাংলার ভোটে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ক্ষেত্রে বুথের বাইরের অশান্তি বিবেচনার আওতায় আসতে চলেছে। প্রশাসনিক আধিকারিদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রতিনিয়ত বুথের ভিতর নজরদারি চলবেই। পাশাপাশি বুথের বাইরের চারপাশে ১০০ মিটার এলাকা পর্যন্ত অশান্তি হচ্ছে কি না, তার উপরও নজর রাখতে হবে। তার জন্য বিশেষ আধিকারিকদের নিয়ে পৃথক দল গঠন করা হবে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে।
অন্য রাজ্যের তুলনায় অতীতে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে বাড়তি হিংসার অভিযোগ এসেছে। কিন্তু শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে কেন পৃথক নিয়ম জারি করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, আসলে কমিশন বাংলায় বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে কাজ করছে। এসআইআর পর্বে একাধিক কার্যকলাপে তা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। এবার বাকি ভোট পর্ব। এক্ষেত্রেও বিজেপির নির্দেশ পালনে ব্যতিক্রম কিছু হবে না।