নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা, বারাকপুর ও বরানগর: সাউথ সিটি কলেজের পড়ুয়াদের প্রিয় ফুড জয়েন্টের কর্ণধার রাজেশ চৌরাসিয়া বুধবার বললেন, ‘গ্যাসের স্টক নেই। দোকান বন্ধ করে দিতে হবে। আমার ১১ জন কর্মী। কীভাবে চালাব বুঝতে পারছি না। সবার আগে বিরিয়ানি বন্ধ করব। চাল-আলু-ডিম সেদ্ধ করতে অনেক গ্যাস খরচ হয়।’ ছোটোখাটো সব দোকানের এই অবস্থা। এই তালিকা থেকে বাদ পড়েনি নামকরা রেস্তরাঁগুলিও। বিকল্পের সন্ধান করতে শুরু করেছে সিরাজ, আউধ ১৫৯০, চাউম্যান, চ্যাপ্টার ২ ইত্যাদি নামজাদা রেস্তরাঁরাগুলি। এর পাশাপাশি ক্যাটারারদের অবস্থাও তথৈবচ। মেনু কাটছাঁট করতে কাস্টমারদের চাপ দেওয়া শুরু করেছে তারা।
রাজেশবাবু বুধবার বললেন, ‘আমরা তো কেরোসিন বা অন্যকিছু দিয়ে কাজ চালাতে পারব না। আমাদের বাণিজ্যিক সিলিন্ডারই নিতে হবে। কিন্তু গ্যাস তো পাচ্ছিই না। এখন মেনু কমাতে হবে। না হলে দোকান বন্ধ করে দিতে হয়।’ একটি বিরিয়ানির দোকানে গিয়ে দেখা গিয়েছে, দোকানদার ফোনে ব্যস্ত। কথোপকথন এইপ্রকার, ‘সিলিন্ডার কখন দিয়ে যাবেন?’ কিন্তু সদর্থক উত্তর না পেয়ে হতাশ হলেন তিনি। অমিত মাইতি নামে ওই ব্যক্তির বক্তব্য, ‘সকালে বলল সিলিন্ডার দিয়ে যাবে। এখনও আসছে না। এভাবে চললে তো দোকান বন্ধ করতে হবে।’ রুটি-তরকারির একটি দোকানে এদিন দেখা গিয়েছে, কয়লার উনুন সম্বল করে চালাচ্ছেন তাঁরা। দোকানদার মেঘনাদ দাস বললেন, ‘উনুন ছাড়া উপায় নেই। আবার পুরনো পদ্ধতিতে ফিরে যেতে হল। একটা মাত্র সিলিন্ডার আছে। সেটা যে কোনও মুহূর্তে শেষ হয়ে যাবে।’ বিপদে পড়েছে ঝাঁ চকচকে ক্যাফেগুলিও। দক্ষিণ কলকাতার একটি ক্যাফে জানাল, ইন্ডাকশন কুকারে রান্নার কাজকর্ম শুরু হবে। তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শহরতলির পরিস্থিতিও একইরকম।
বারাকপুরের দাদা বউদির বিরিয়ানি দোকানের মালিক সঞ্জীব সাহা বলেন, ‘আমাদের কাছে যা গ্যাস আছে তাতে দু’দিন মাত্র চলবে। এরপর কাঠে বিরিয়ানি হলেও অন্য রান্না বন্ধ করে দিতে হবে। ৬০০ জন কাজ করেন। তাঁদের জন্য ভাবতে হচ্ছে।’ সংকটে বিভিন্ন মিষ্টির দোকান। সমস্যা দেখা দিয়েছে সোদপুরের একটি বড়ো বিস্কুট প্রস্তুতকারক সংস্থায়। তাঁদের দাবি, ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষকে বারবার চিঠি দিলেও সেভাবে উত্তর পাননি। সোদপুর, আগরপাড়া, বেলঘরিয়া, বরানগর, দমদম, উত্তর শহরতলির রেস্তরাঁ, মিষ্টির দোকানগুলি কার্যত বন্ধ হওয়ার মুখে দাঁড়িয়ে আছেন বলে জানালেন।
সিরাজ গোল্ডেন রেস্তরাঁর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইশতেয়াক আহমেদ বলেন, ‘গ্যাসের সমস্যা আমাদের রান্নাঘরে পড়েছে। এমন চললে রেস্তরাঁর কাজে গভীর প্রভাব পড়বে।’ চাউম্যান, আউধ ১৫৯০ ও চ্যাপ্টার টু’য়ের ডিরেক্টর দেবাদিত্য চৌধুরী বলেন, ‘বাণিজ্যিক গ্যাসের প্রভাব দেশজুড়ে। আমাদের রেস্তরাঁতেও তা পড়েছে। এই পরিস্থিতি চললে মেনু কাটছাঁট করতে হবে।’