‘বকেয়া’ না মেটানো প্রাক্তন ভিসিকে পেনশন! বিতর্কে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টস বিভাগ
বর্তমান | ১২ মার্চ ২০২৬
অর্পণ সেনগুপ্ত, কলকাতা: অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা তথা পেনশন চালুর জন্য যাবতীয় অগ্রিম বা বকেয়া মিটিয়ে ফেলতে হয় শিক্ষক ও আধিকারিকদের। তা না করেই প্রাক্তন উপাচার্য শান্তা দত্ত দে’র পেনশন চালু করেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। এমনই অভিযোগ সেখানকার সরকারপন্থী কর্মী ইউনিয়নের। তাদের দাবি, হোম সায়েন্স বিভাগের প্রধান থাকাকালীন ২০০৫ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৪২ হাজার ৬০ টাকা দেওয়া হয়েছিল প্রফেসর দত্ত দে-কে। সেটির মীমাংসা না করেই তাঁর অবসরকালীন সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে বিশ্ববিদ্যালয়।
শুধু এই বিষয়টি নয়! বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টস বিভাগের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কর্মী সরবরাহকারী একটি এজেন্সির সুদ ছাড়া প্রায় এক কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা আটকে রেখেছে। সেই এজেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাতে সুদ সহ বকেয়ার পাশাপাশি দু’লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণও চাওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ এই টাকা ছেড়ে দিতে বললেও অ্যাকাউন্টস বিভাগ তা আটকে রেখেছে। কমিটি গড়ে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া চালুর সুপারিশও করা হয়েছে। এই এজেন্সির কর্ণধার এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু আধিকারিকের বিরুদ্ধে পেমেন্টের পরিবর্তে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ এনেছিলেন। এবারেও তেমন কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে জল্পনা। তৃণমূলপন্থী সারা বাংলা শিক্ষাবন্ধু সমিতির কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের আহ্বায়ক প্রবীর ঘোষ গোটা ঘটনার তদন্ত দাবি করে চিঠি দিয়েছেন উপাচার্যকে।
এ বিষয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টস অফিসার অভীক কুশারি। প্রশ্ন শুনে রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে ওঠেন তিনি। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি উপাচার্য আশুতোষ ঘোষেরও। তবে প্রাক্তন উপাচার্য শান্তা দত্ত দে বলেন, ‘এরকম কোনো বকেয়া থেকে থাকলেও আমার জানা নেই। তবে সত্যিই যদি এরকম কিছু থেকে থাকে, তাহলে অ্যাকাউন্টস বিভাগেরই তা কেটে নেওয়ার কথা। সেটা কেন করা হয়নি, জানি না। এখন আমার বিরুদ্ধে অনেক কিছুই বলা হবে। সেসবে পাত্তা দিচ্ছি না। আড়াই বছর বিনা বেতনে উপাচার্যের দায়িত্ব সামলেছি। অবসরের পরে বিনা সাম্মানিকে পড়াতে চাইছি। তাও দেওয়া হচ্ছে না। এর পিছনে শাসকপন্থী লবি সক্রিয়।’
প্রবীর ঘোষ বলেন, ‘এর আগে একই যুক্তিতে আমাদের অনেক সহকর্মী, সিনিয়র আধিকারিক এবং অধ্যাপকের পেনশন বা অন্যান্য আর্থিক সুযোগ সুবিধা আটকে গিয়েছিল। একজন আধিকারিকের ক্ষেত্রে বিষয়টির নিষ্পত্তি না হওয়ায় তিনি পেনশন না পেয়েই প্রয়াত হন। ৪২ হাজার টাকা কোনো বড় অ্যামাউন্ট নয়। আমাদের প্রশ্ন, নিয়মের ব্যতিক্রম কেন করা হচ্ছে? অ্যাকাউন্টস বিভাগকেই এর উত্তর দিতে হবে।’