• জয়শঙ্করের ফোনেই ছাড়পত্র? হরমুজ়ে প্রথম সেফ প্যাসেজ পেল ভারতীয় জাহাজ
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • বড় কূটনৈতিক সাফল্য ভারতের। বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচির সঙ্গে ফোনে কথা হয় ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের (S Jaishankar)। এর পরেই হরমুজ় প্রণালীতে সেফ প্যাসেজ পেল ভারতের ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ। ভারতের জ্বালানি বহনকারী ট্যাঙ্কারকে হরমুজ় প্রণালী পার হওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে ইরান। বুধবার সন্ধ্যায় মুম্বই বন্দরে একটি জাহাজ পৌঁছেও গিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, হরমুজ়ে (Strait Of Hormuz) আটকে থাকা ভারতের বাকি জাহাজগুলিও সেফ প্যাসেজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান। যদিও আমেরিকা, ইজ়রায়েল-সহ বাকি দেশগুলির জাহাজের জন্য এখনও হুঁশিয়ারি বহাল।

    সূত্রের খবর, মুম্বইতে পৌঁছেছে লাইবেরিয়ার পতাকা লাগানো শেনলং সেুয়েজ়ম্যাক্স নামের একটি জাহাজ। ওই জাহাজে ছিল ভারতের জন্য জ্বালানি। জাহাজটি সৌদি আরবের রাস টানুরা বন্দরে ক্রুড অয়েল ভরেছিল গত ১ মার্চ। তার দু'দিন পরে সেটি ওই বন্দর থেকে রওনা দেয়। জাহাজের ক্যাপ্টেন ছিলেন এক ভারতীয়। ৮ মার্চ ওই জাহাজের শেষ সিগন্যাল পাওয়া গিয়েছিল হরমুজ় প্রণালীতে। জাহাজটিতে ছিল ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩৩৫ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল। মুম্বই পোর্ট অথরিটির ডেপুটি কনজ়ারভেটর প্রবীণ সিং জানিয়েছেন, জাহাজে থাকা ক্রুড অয়েল পূর্ব মুম্বইয়ের মাহুলের রিফাইনারিতে নিয়ে যাওয়া হবে।

    মুম্বইয়ে শেনলংয়ের প্রতিনিধি জিতেন্দ্র যাদব জানান, শেনলং সুয়েজ়ম্যাক্স জাহাজে ছিলেন ২৯ জন ভারতীয়, পাকিস্তানি এবং ফিলিপাইন্সের ক্রু। জাহাজে ক্যাপ্টেনের ভূমিকায় ছিলেন সুকান্ত সিং সান্ধু।

    ভারতের শিপিংয়ের ডিরেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৮টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এখনও হরমুজ়ে আটকে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঠিক আগে হরমুজ় প্রণালী পার করে আটটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ সমুদ্রের সুরক্ষিত অঞ্চলে পৌঁছে গিয়েছিল।

    হরমুজ়–এ ‘স্বস্তি’, ঘাটতি এড়াতে রুশ তেলেই ভরসা ভারতেরগত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর ইজ়রায়েল এবং আমেরিকার যৌথ হামলার পর ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছিল। হরমুজ় দিয়ে কোনও জাহাজ পার করার চেষ্টা করলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তেহরান। এই হরমুজ় নিয়েই গত কয়েকদিনে আরও চড়েছে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের পারদ। একদিকে, ইরানের হুঁশিয়ারি—নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন এই প্রণালী দিয়ে এক বিন্দু তেলও রপ্তানি হতে দেবে না তারা। অন্যদিকে আমেরিকার হুমকি—ইরান যদি হরমুজ় প্রণালীতে মাইন পুঁতে অন্য দেশের জাহাজকে ধ্বংসের চেষ্টা করে, তবে ফল ভালো হবে না। সবমিলিয়ে এই জলপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহে বড় সমস্যা তৈরি হয়। প্রভাব পড়ে ভারতেও।

    উল্লেখ্য, ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৫০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়েই আসে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২৬ লক্ষ ব্যারেল তেল এই পথ দিয়ে আসত। রান্নার গ্যাস বা LPG-র ক্ষেত্রে ভারতের নির্ভরতা আরও বেশি। ভারতের প্রায় ১০০ শতাংশ LPG আমদানি এই পথ দিয়েই হয়। ফলে গত কয়েকদিনেই সরবরাহে ঘাটতি পড়তেই হাহাকার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। দেশে জ্বালানি নিয়ে উদ্বেগ মেটাতে বিদেশ মন্ত্রকের এই পদক্ষেপ। মনে করা হচ্ছে ইরানের এই সেফ প্যাসেজ়ই মেটাবে ভারতের গ্যাস নিয়ে উদ্বেগ।

  • Link to this news (এই সময়)