রান্নার গ্যাসের অভাবে (LPG Shortage) ঝাঁপ বন্ধ হচ্ছে একের পর এক রেস্তোরাঁর। এখনই সমস্যা না মিটলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলির উপরেও। সঙ্কটের মুখে পড়ার আশঙ্কা গিগ ওয়ার্কারদের (Gig Workers)।
ভারত তার এলপিজি-র প্রায় ৮০-৯০% আমদানি করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় LPG-র জোগান কমে গিয়েছে। ইতিমধ্যেই গোটা দেশে প্রায় ১০,০০০-এর বেশি রেস্তোরাঁ ও ক্লাউড কিচেন সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। বিভিন্ন মেট্রো সিটিতে ফুড চেইন (McDonald's বা Domino's) তাদের মেনু কাটছাঁট করতে বাধ্য হয়েছে। কলকাতা ও চেন্নাইয়ের মতো শহরে অনেক কিচেন বাধ্য হয়ে কাঠের উনুন বা কয়লা ব্যবহার করছে, যার ফলে জ্বালানি কাঠের দামও দ্বিগুণ হয়েছে।
রেস্তোরাঁগুলো রান্না করতে না পারায় ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মগুলোতে খাবারের অর্ডার প্রায় ৫০-৬০% কমে গিয়েছে। এই সঙ্কটের কারণে জোম্যাটো এবং সুইগির শেয়ারের দামেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ফুড ডেলিভারি সংস্থার অর্ডারের সঙ্গেই Gig Worker-দের উপার্জন জড়িত। গিগ কর্মীরা প্রতিটি অর্ডারের ভিত্তিতে পারিশ্রমিক পান। রেস্তোরাঁগুলোর কার্যক্রম কমে গেলে সরাসরি তাঁদের হাতে উপার্জন কমতে থাকে। এই কর্মীদের অনেকেই তাঁদের পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রের গ্রামাঞ্চলে—বিশেষ করে বিদর্ভ, মারাঠওয়াড়া, কোলাপুর এবং রাজ্যের অন্যান্য অংশে বসবাসকারী গিগ ওয়ার্কাররা ইতিমধ্যেই সমস্যায় পড়তে শুরু করেছেন। প্রভাব পড়তে শুরু করেছে পুনে, দিল্লি, বেঙ্গালুরু-র মতো আরও একাধিক শহরে।
ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ডেলিভারি বয় পরশুরাম কাম্বলে বলেন, ‘আমার ১২ ঘণ্টার শিফটে আমি দিনে প্রায় ৩২টি অর্ডার ডেলিভারি করি। গত তিন দিন ধরে তা কমে ১৩-১৫টিতে নেমে এসেছে।’ তাঁর দাবি, দৈনিক আয় ১,৬০০ টাকা থেকে কমে এখন কমবেশি ৬০০ টাকায় এসে ঠেকেছে।’
কলকাতার বেশ কিছু নামী রোস্তোরাঁ ইতিমধ্যেই সাময়িক ভাবে বন্ধ হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ফুড ডেলিভারি অর্ডারের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব এখনও পড়েনি কলকাতায়। তবে রান্নার গ্যাসের সঙ্কট চলতে থাকলে এর প্রভাব Gig Worker-দের উপরেও পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।