• গ্যাস-সঙ্কটে মেনুতে কাটছাঁট, কৃষ্ণনগরের সবচেয়ে বড় রেস্তোরাঁয় রয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা, জানলে চমকে যাবেন
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • রান্নার গ্যাসের (LPG Gas) জোগান নিয়ে আতঙ্কের আবহ। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন হোটেল, রেস্তোরাঁগুলির ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে। বহু নাম করা ফুড চেন একাধিক মেট্রো শহরে তাদের রেস্তোরাঁ আপাতত বন্ধের কথাও ভাবছে। বহু জায়গায় মেনুতে কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে অনেকেই বিদেশ থেকে নানা ইক্যুইপমেন্ট এনে হোটেল চালান। এই বাজারে তারা কিছুটা স্বস্তিতে। যেমন নদিয়ার কৃষ্ণনগরের নাম করা একটি হোটেল। শহরের অদূরেই জাতীয় সড়কের ঠিক পাশে এই রেস্তোরাঁ উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পথে হোক বা অন্য কোথাও যাওয়ার সময়ে স্টপেজ মাস্ট। রান্নার গ্যাসের সঙ্কটকালে, আপাতত সেখানেও মেনু কার্ডে কাটছাঁট করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, গ্যাসের আকাল দেখা দিলেও রেস্তোরাঁ তাঁদের বন্ধ রাখতে হবে না। সেই সব ব্যবস্থা করা আছে।

    কৃষ্ণনগর শহরের সব থেকে বড় রেস্তোরাঁ এটিকেই বলা হয়। NH-34-র উপরে বিশাল জায়গা নিয়ে এই রেস্তোরাঁ চলে। বাইরেই বসে হাট। এখানকার ইউনিক ডাইনিং এক্সপিরিয়েন্স নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় বহু ভিডিয়ো দেখা যায়। এখানে খাবার সার্ভ করার জন্য রয়েছে রোবট। সঙ্গে ম্যানুয়াল সার্ভের ব্যবস্থাও রয়েছে। এ তো গেল গ্রাহকদের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা।

    হেঁশেলেও রয়েছে অত্যাধুনিক সব ইলেক্ট্রনিক্স ইক্যুইপমেন্ট। ব্যবহার করা হয় বিদেশি ইন্ডাকশন। তাতেই নানা রকম খাবার তৈরি করা যায়। রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বলছেন, প্রতিদিন তাঁদের ৪৭ কেজির দু’টো সিলিন্ডার লাগেই। আপাতত গ্যাসের সঙ্কটের কথা মাথায় রেখে বেশ কিছু পদ তৈরি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাদার্স হাটের নিজস্ব ডেয়ারি ফার্ম রয়েছে। সেই ফার্মে পালিত গোরুর গোবর নষ্ট না করে তা ব্যবহার করা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি তৈরিতে। গোবর সংগ্রহ করে তা দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে ঘুঁটে বা স্টিক। পরে সেগুলি শুকিয়ে রান্নার কাজে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

    অন্যান্য দিন প্রায় ২০ রকমের মাটন ডিশ রান্না হয়। এখন তিন থেকে চার রকমের করা হচ্ছে। ফিশ আইটেম যেখানে এতদিন ৩০ রকমের হতো, এখন সেখানে পাঁচ-সাত রকমের তৈরি হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ জানান, তাঁদের এমন রাইস ওভেন রয়েছে, যেখানে একসঙ্গে ৪০০ লোকের রান্না হয়। তার জন্য গ্যাসের প্রয়োজন হয় না। তাই গ্যাসের সঙ্কট তীব্র হলেও তাঁদের কোনও সমস্যা হবে না।

    উল্লেখ্য, প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার লোক এই রেস্তোরাঁতে খাওয়া দাওয়া করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, সর্ববৃহৎ কিচেন এবং এক সঙ্গে এত মানুষের বসে খাওয়ার জায়গা অন্য কোথাও নেই।

  • Link to this news (এই সময়)