আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন না সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। আলিমুদ্দিন সূত্রে খবর, রাজ্য জুড়ে নির্বাচনী প্রচারে সময় দিতে তিনি নিজেকে ভোটের লড়াই থেকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এদিকে সুজন চক্রবর্তী আবারও যাদবপুর কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন বলে জোর জল্পনা। যদিও ওই কেন্দ্রের ‘ভূমিপুত্র’ সৃজন ভট্টাচার্যের নামও ঘুরছে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে। শোনা যাচ্ছে, তিনি কসবা থেকেও লড়তে পারেন, যদিও সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠনের দায়িত্ব থাকায় ভোটে না-ও দাঁড়াতে পারেন।
অন্যদিকে মীনাক্ষী মুখার্জিকে প্রায় নিশ্চিতভাবে উত্তরপাড়া থেকে প্রার্থী করা হতে পারে। সিপিএমের সাম্প্রতিক পাড়ায় পাড়ায় যে বৈঠকি সভার কর্মসূচী চলছে, তাতে উত্তরপাড়ার আনাচেকানাচে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে মীনাক্ষীকে। আবার ওই অঞ্চলেরই অন্তর্গত বালি বিধানসভায় এবার দীপ্সিতা ধর দাঁড়াবেন কিনা তা নিয়েও দলীয় কর্মী সমর্থকদের মনে তৈরী হয়েছে ধোঁয়াশা। যদিও ঘনিষ্ঠ মহলে সূত্রে শোনা যাচ্ছে পার্টি চাইলে দাঁড়াতে কোনও আপত্তি নেই তাঁর।
সম্ভাব্য তালিকায় আছেন উত্তর চব্বিশ পরগনার জেলা সম্পাদক পলাশ দাশ, প্রাক্তন যুব নেতা এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আভাস রায়চৌধুরী। রাজারহাট-নিউ টাউন থেকে প্রার্থী হতে পারেন প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবের পুত্র সপ্তর্ষি দেব। ভোটার দিন ঘোষণা না হলেও এলাকায় জনসংযোগ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন তিনি দলীয় কর্মীদের নিয়ে। তবে তরুণ নেতা শতরূপ ঘোষ সম্ভবত এবারের নির্বাচনে লড়তে চাইছেন না।
বিধানসভা নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। অথচ বামফ্রন্ট কাদের সঙ্গে জোট করবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।দীর্ঘদিন ধরেই সিপিআই(এম) রাজ্য নেতৃত্ব বিজেপি ও তৃণমূল-বিরোধী সমস্ত শক্তিকে এক ছাতার তলায় আনার কথা বলে আসছে। কিন্তু বাস্তবে সেই জোটের অঙ্ক মেলানো সহজ হচ্ছে না। ইতিমধ্যেই কংগ্রেস স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই একা প্রার্থী দেবে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বামফ্রন্টের সঙ্গে জোট করেও একটি আসন না পাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি—মাঠপর্যায়ে জোট কার্যকর হয়নি, বরং তৃণমূল-বিজেপি মেরুকরণের মাঝে তাদের সংগঠন দুর্বল হয়েছে।
বাংলার সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিসংখ্যানও বামেদের সামনে কঠিন বাস্তব তুলে ধরছে। ২০০৯ সালে সিপিআই(এম)-এর ভোট শতাংশ ছিল ৩৩.১। তা কমে ২০১৯ সালে দাঁড়ায় ৬.৩ শতাংশে এবং ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে আরও নেমে ৫.৭ শতাংশে পৌঁছয়। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সিপিএম-এর কোনও বিধায়ক নেই, লোকসভাতেও নেই কোনও সাংসদ। গত ১৪ বছরে তৃণমূলের কাছে হারানো রাজনৈতিক জমি জোট করেও ফেরত আসেনি—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
এই পরিস্থিতে প্রার্থী মুখ কতটা গুরুত্বপূর্ণ না কি বুথ স্তরের ভঙ্গুর সাংগঠনিক কাঠামোর ঘষামাজার ওপর নির্ভর করছে বামেদের নির্বাচনী ভবিষ্যৎ তার দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।