মুর্শিদাবাদবাসীর জন্য বিরাট সুখবর। বৃহস্পতিবার নশিপুর হল্ট স্টেশনের শিলান্যাস করল পূর্ব রেল। এরফলে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হল বলে জানিয়েছে রেল। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক গৌরী শঙ্কর ঘোষ ও শিয়ালদা ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা।
কৃষ্ণনগর-লালগোলা রেল সেকশনে এই নতুন হল্ট স্টেশন তৈরির উদ্যোগ নিয়ে রেল মন্ত্রক অবশেষে হাওড়া ও শিয়ালদা ডিভিশনের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগগত প্রতিবন্ধকতা দূর করার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে 'কলকাতা ডিটুর' এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। আগে এই এলাকায় যাতায়াতের জন্য ধীরগতির ফেরি পরিষেবার উপরই এলাকাবাসীকে নির্ভর করতে হত। কিন্তু নতুন স্টেশন তৈরি হলে জলপথের উপর নির্ভরতা অনেকাংশেই কমে যাবে।
তবে এই হল্ট স্টেশনের গুরুত্ব শুধুমাত্র যাতায়াতের সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে। কৃষকদের তাঁদের উৎপাদিত পণ্য কম খরচে বাজারে পৌঁছে দিতে সাহায্য করবে এই স্টেশনই। পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতিতে “গোল্ডেন আওয়ার”-এর গুরুত্ব বজায় রেখে মুর্শিদাবাদ ও বহরমপুরের মেডিক্যাল কলেজে দ্রুত পৌঁছানোর সুযোগ করে দেবে।
রেলের তরফে দাবি করা হয়েছে, নশিপুর হল্ট কেবলমাত্র রেল মানচিত্রে একটি প্রযুক্তিগত সংযোজন নয়। বরং এটি স্থানীয় সংহতি ও আঞ্চলিক সংযোগের প্রতি এক দৃঢ় প্রতিশ্রুতি। এটি দুই অঞ্চলের গতিকে একত্রিত করে নিশ্চিত করবে যে উন্নয়ন ও নিরাপত্তা প্রতিটি যাত্রীর কাছে পৌঁছে যায়।
যাত্রীদের কেমন করে সুবিধা হবে বুঝে নিন
একই জেলার অংশ হলেও ভাগীরথী নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন দুটি এলাকা হল আজিমগঞ্জ ও নশিপুর। স্থানীয় মানুষের কাছে এই ‘হল্ট’ স্টেশনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এর মাধ্যমে আরও কাছাকাছি এসে যাবে হাওড়া এবং শিয়ালদা ডিভিশন। হাওড়ার দিক থেকে যাঁরা আসতেন তাঁদের নশিপুর বা মুর্শিদাবাদ যাওয়ার জন্য অনেকটা ঘুরে যেতে হতো। মুর্শিদাবাদ স্টেশন শিয়ালদা ডিভিশনে রয়েছে, আজিমগঞ্জ রয়েছে হাওড়া ডিভিশনে। যাঁরা শিয়ালদা থেকে আসতেন, তাঁদের মুর্শিদাবাদ নেমে অনেকটা কাঠখড় পুড়িয়ে আজিমগঞ্জের দিকে যেতে হতো। উল্টোদিকে হাওড়া থেকে আসা যাত্রীদেরও আজিমগঞ্জে নেমে মুর্শিদাবাদের দিকে আসতে হতো। আর এই যাতায়াত নৌকার মাধ্যমে নদী পেরিয়ে যেতে হতো।
নতুন হল্ট স্টেশন পাওয়া গেলে নশিপুর সেতু ব্যবহার করে যে এক্সপ্রেস ট্রেনগুলো যাতায়াত করে, সেগুলির জন্যও সহায়ক হবে। যাত্রীরা এই হল্টে নামলে অনেক কম সময়ে আজিমগঞ্জ পৌঁছতে পারবেন। উল্টোদিকে আজিমগঞ্জ থেকে এলেও এই হল্টে এসে শিয়ালদা ডিভিশনের ট্রেন ধরতে সুবিধা হবে।