• আরও বাড়বে গ্যাসের দাম? ইরানের সঙ্গে জয়শঙ্করের তিন দফা কথা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড় আপডেট
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে। তবে সেই রণদামামার আঁচ কি সরাসরি এসে পড়বে আমার-আপনার রান্নাঘরে? ইরান বনাম আমেরিকা-ইজ়রায়েলের এই যুদ্ধের মাঝে ভারতের তথা বাংলার সাধারণ মানুষের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটাই— পেট্রল, ডিজ়েল বা রান্নার গ্যাসের জোগান কি ব্যাহত হবে?

    একের পর এক নামী-দামি রেস্তঁরা বন্ধের খবর আসছে। মন্দিরে মন্দিরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রসাদ বিলি। ফলে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ। এই আশঙ্কার মাঝেই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নয়াদিল্লি বলে দাবি করল বিদেশমন্ত্রক (MEA)। বৃহস্পতিবার মন্ত্রক জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে তিনবার কথা বলেছেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

    এ দিন বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে মূলত লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এবং ভারতের জ্বালানি তেলের জোগান কী ভাবে অক্ষুণ্ণ রাখা যায়, তা নিয়েই কথা বলেছেন জয়শঙ্কর।

    রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, ‘বিদেশমন্ত্রী ডঃ এস জয়শঙ্কর এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে সাম্প্রতিক দিনগুলিতে তিনবার কথা হয়েছে। শেষ আলোচনায় শিপিংয়ের নিরাপত্তা এবং ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।’ তবে ‘কৌশলগত কারণে’ এর চেয়ে বেশি কিছু এখনই খোলসা করতে রাজি হয়নি সাউথ ব্লক।

    ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাইরে থেকে আমদানি করে। এর একটি বড় অংশ আসে পারস্য উপসাগর হয়ে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যদি ওই সমুদ্রপথ বা ‘হরমুজ় প্রণালী’-তে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটলে, বিশ্ববাজারে তেলের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যেতে পারে। ইতিমধ্যেই তা বাড়তে শুরু করে দিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের সাধারণ মানুষের পকেটে।

    সম্প্রতি সংবাদসংস্থা PTI ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সরকারি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, ভারতমুখী তেলের ট্যাঙ্কারগুলিকে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে যাওয়ার বিশেষ অনুমতি দিয়েছে ইরান। যে রকম তারা খোলাখুলি চিন ও রাশিয়ার ট্যাঙ্কারগুলিকে ছাড়পত্র দিয়েছে।

    তবে এ দিন এই বিষয়ে বিদেশমন্ত্রক চূড়ান্ত কিছু বলতে চানি। রণধীর জয়সওয়াল জানান, ‘এই বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলা অকালপক্কতা হবে (Premature)। তবে সরকার পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছে এবং সন্ধ্যায় এই নিয়ে আরও তথ্য দেওয়া হতে পারে।’

    তেল ও গ্যাসের জোগানের পাশাপাশি ইরানে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন দিল্লি। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৯,০০০ ভারতীয় নাগরিক আটকে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র, চাকুরিজীবী, নাবিক, এমনকী তীর্থযাত্রীরাও আছেন।

    বিদেশমন্ত্রক জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই অনেক ছাত্র ও তীর্থযাত্রীকে তেহরান থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাঁরা দেশে ফিরতে চাইছেন, তাঁদের জন্য আজ়ারবাইজান এবং আর্মেনিয়ার স্থলপথ ব্যবহার করে বাণিজ্যিক উড়ানে ফেরার ব্যবস্থা করছে ভারতীয় দূতাবাস।

    ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘকালীন সুসম্পর্কই বর্তমান সঙ্কটে ভারতের একমাত্র রক্ষাকবচ হতে পারে। আর যাতে যে কোনও পরিস্থিতিতে সস্তায় তেলের জোগান চালু থাকে, তা নিশ্চিত করতেই ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে এই ঘনঘন যোগাযোগ জয়শঙ্করের। এই রণকৌশল কী কাজ হবে, সেটাই এখন দেখার।

  • Link to this news (এই সময়)