• গ্যাস বুকিংয়ের নম্বর বন্ধ, ফাঁকা সিলিন্ডার নিয়ে দোকানে হাজির উপভোক্তা
    এই সময় | ১২ মার্চ ২০২৬
  • জ্বালানি-জ্বালায় জ্বলছেন (LPG Crisis) সাধারণ মানুষ। সংসদে দাঁড়িয়ে বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী (Hardip Singh Puri) জানিয়েছেন, কোনও সঙ্কট নেই। বিক্ষিপ্ত সমস্যা হচ্ছে প্যানিক বুকিংয়ের জন্য। কিন্তু সাধারণ মানুষ বলছেন, উদ্বেগ-প্যানিক তো কাজ করবেই। কারণ, বুকিং করলেও সিলিন্ডার কবে পাবেন, কেউ-ই নির্দিষ্ট করে তা বলতে পারছেন না। সেই প্যানিক এমন জায়গায় যাচ্ছে, গ্রাহকরা বাড়িতে থাকা ফাঁকা সিলিন্ডার নিয়ে সটান হাজির হচ্ছেন গ্যাসের দোকানে। পারলে সেখান থেকেই ফাঁকা সিলিন্ডার দিয়ে ভরা সিলিন্ডার নিয়ে যাবেন। অন্য দিকে LPG-র অভাবে রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দিয়েছেন মালিক। পেট চলবে কী ভাবে, কপালে হাত কর্মীদের। বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম (Jhargram News) শহরে দেখা গিয়েছে সেই ছবি।

    ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুর এলাকায় মেন রোডের উপরে একটি রেস্তোরাঁ। সেখানে প্রাতঃরাশ, দুপুরের খাবার, সন্ধের ইন্ডিয়ান, চাইনিজ় ডিশ পাওয়া যায়। এ দিন দেখা গেল দোকানের বাইরে ঝুলছে সাইনবোর্ড, তাতে লেখা, ‘গ্যাসের অভাবে রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকবে। CLOSE।’

    রেস্তোরাঁর এক কর্মী উজ্জ্বল পাল বলেন, ‘আমাদের রেস্তোরাঁয় প্রতিদিন ১৯ কেজির দেড়টা মতো সিলিন্ডার খরচ হয়। বুধবার থেকে গ্যাসের এজেন্টকে ফোন করছি, ফোন ধরছেন না। গ্যাসের অভাবে এ দিন দুপুর থেকেই রেস্তোরাঁ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিক। গ্যাস পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া গেলে আবার চালু করা হবে।’

    এ দিন দুপুরে রেস্তোরাঁর মেনু কমিয়ে সাদা ভাত, ডাল, সব্জি রান্না করা হয়েছে। দূর থেকে আসা রেস্তোরাঁর নিত্যদিনের খদ্দেরদের জন্য এই ব্যবস্থা। এ দিকে এখানে রাঁধুনি, সাফাই কর্মী-সহ অন্যান্য কর্মী মিলিয়ে ১৩ জন রয়েছেন। রেস্তোরাঁ না চললে বিপদে পড়তে হবে তাঁদেরও।

    রাঁধুনি ঠাকুর প্রদীপ কর বলেন, ‘দৈনিক মজুরিতে আমরা এখানে কাজ করছি। গ্যাসের অভাবে রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ বার আমরা পরিবার চালাব কী ভাবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি।’

    অন্য দিকে, ঝাড়গ্রাম শহরের গ্যাস এজেন্সির অফিসগুলিতে সকাল থেকেই লম্বা লাইন। অনেকেই সাইকেলে ও মোটরবাইকের পিছনে খালি সিলিন্ডার নিয়ে হাজির হয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, অনলাইনে গ্যাস বুকিং করা যাচ্ছে না। অফিসে ফোন করা হলেও কেউ ফোন তুলছে না। তাই বাধ্য হয়ে গ্যাস নেওয়ার জন্য সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা।

    সকাল আটটা থেকে গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এক গৃহবধূ শ্যামলী দাস বলেন, ‘বাড়ির গ্যাস শেষের মুখে। গ্যাস বুকিং এর জন্য বার বার ফোন করছি, কেউ ফোন তুলছেন না। তাই বাধ্য হয়ে সকাল থেকে গ্যাস নেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পেলে জঙ্গল থেকে কাঠ পাতা এনে রান্না করতে হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)